এবার ‘হুমকি’র মুখে সুবর্ণচরে ধর্ষণের শিকার সেই পরিবার

সন্ত্রাসীদের 'হুমকিতে' নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বহুল আলোচিত গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে ওয়ার্ড থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিরাপত্তার অভাব দেখা দেওয়ায় পুলিশের পরামর্শে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে কেবিনে সরিয়ে নেয়। জেলা পুলিশ তার কেবিনে পুলিশ পাহারা বসিয়েছে।

এ প্রতিনিধি হাসপাতালে গিয়ে কেবিনের সামনে একজন পুলিশ কনস্টেবলকে দায়িত্বরত দেখেছেন।

এ ঘটনায় করা মামলার বাদী ও ওই গৃহবধূর স্বামী সিরাজ মিয়া অভিযোগ করেন, গ্রাম্য ডাক্তার সোহেল, একরাম নগরের ইব্রাহিম, হাশিম, জনু মাঝি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। রুহুল আমিনকে ছাড়িয়ে না আনলে আমার ছেলেমেয়েদের মাটির তলায় লুকিয়ে ফেলবে।

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ জানান, বাড়িতে থাকা বড় মেয়ে ও ছোট দুই ছেলে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

মামলার এজাহারে মোট নয়জনকে আসামি করা হলেও সেখানে চর জুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার রুহুল আমিনের নাম না থাকায় বুধবার রাতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুকের কাছে হতাশা প্রকাশ করেন ওই নারী।

এরপর সেই রাতেই জেলা সদরের একটি হাঁস-মুরগির খামার থেকে রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা রুহুল আমিনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. ওমর ফারুক দলীয় সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

এই ঘটনায় জসিম উদ্দিন ও বুলু নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ওই ঘটনার মূল নির্দেশদাতাসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। গ্রেপ্তার অন্যরা হলো, শীর্ষ সন্ত্রাসী স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন, মামলার প্রধান আসামি সোহেল, বাদশা আলম, স্বপন ও বেচু।

চরজব্বার থানার ওসি নিজাম উদ্দিন এ প্রতিনিধিকে জানান, গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে প্রথম তিনজনের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। বাকি আরও দু’জনের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়ার কাগজপত্র আদালতে জমা দেয়া হবে। মামলার অপর আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে চরজব্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল জানিয়েছেন।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেন, মামলার এজাহারে বুলু ও জসিমের নাম ছিল না। তবে পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পায়। দুজনের মধ্যে জসিমকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের নাজিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে চরজব্বার থানা-পুলিশের একটি দল। পরে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হাসান আলী বুলুকে।

 শুক্রবার, দুপুর ১টায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নোয়াখালী সদর হাসপাতালে সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় সদস্য শুভ্রাংশ চক্রবর্তী, বাসদের কেন্দ্রীয় সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্টলীগ এর পলিটব্যুরোর সদস্য অধ্যাপক আব্দুর সাত্তার, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান প্রমুখ। এছাড়া, গণধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর খোঁজ নিতে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরামের (বোয়াফ) একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধিরা গণধর্ষণের শিকার ঐ নারীর খোঁজ নিতে যাবেন বলে জানা গেছে।