ফুটবল কিংবদন্তি কবিরের বিদায়

চলে গেলেন পঞ্চাশ দশকের ফুটবল কিংবদন্তি কবির আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার রাতে ৮৭ বছর বয়সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তারকা। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল এক উজ্জ্বল ইতিহাসের। পঞ্চাশ দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সাদা দলের আক্রমণভাগে আশরাফ-মারী-কবির-ত্রয়ীর দাপটে কাঁপত প্রতিপক্ষের রক্ষণ। আশরাফ হোসেন পরপারে চলে গেছেন নব্বইয়ের দশকে। চিং হ্লা মং মারী গেছেন ২০১২-তে। এবার প্রিয় বন্ধুদের পথ ধরলেন কবির।

পূর্ব পাকিস্তান দলের নিয়মিত মুখ কবির

পাকিস্তান জাতীয় দলেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ছিলেন সহঅধিনায়ক। ঢাকায় তৎকালীন প্রথম বিভাগ ফুটবলে তার অভিষেক ১৯৫২ সালে। সে বছরই বিজি প্রেসকে চ্যাম্পিয়ন করান এই ফরোয়ার্ড। ১৯৫৬ সালে মোহামেডানে যোগ দিয়ে নজর কাড়েন তিনি। খেলেছেন ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত। শেষটা ভিক্টোরিয়ায়। সেখানেই কবিরের সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন আরেক তারকা গোলাম সারওয়ার টিপু। গতকাল স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘কবির ভাইয়ের চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেল পঞ্চাশ দশকের ফরোয়ার্ডলাইন। খুব অল্প দিন তার সঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছে। তবে তার খেলা দেখেছি অনেক। তিনি, মারী দা এবং আশরাফ ভাই এই তিনজন ছিলেন পঞ্চাশ দশকের সেরা আক্রমণত্রয়ী।’

টিপু আরও বলেন, ‘পাকিস্তান দলে তিনি ছিলেন রাইট উইঙ্গার। আর পূর্ব পাকিস্তান দলে খেলতেন রাইট ইন ফরোয়ার্ড পজিশনে। মারী দা খেলতেন মাঝখানে আর আশরাফ ভাই ছিলেন লেফট ইন ফরোয়ার্ড। এদের খেলা এখনো চোখে ভাসে।’

পাকিস্তান দলের হয়ে এশিয়ান গেমসে খেলা কবির প্যারালাইজড ছিলেন প্রায় ১৭ বছর। তার একমাত্র ছেলে সাব্বিরুল কবিরের ছেলে সোহাইল কবির জানান, ‘২০০১ সালে স্ট্রোকের পর থেকেই প্যারালাইজড ছিলেন তিনি। গত ২৫ ডিসেম্বর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে।’

গতকাল বাদ জুমা ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় এই ফুটবল তারকাকে।