নেতা ও সন্তান হারিয়ে শোকে মুহ্যমান কিশোরগঞ্জ

রাজনীতির অঙ্গনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে বলা হয় ‘বিউটি অব পলিটিকস’। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক দায়িত্বে দৌড়ঝাঁপ দৃশ্যমান নয়, অথচ দলের ভেতরে-বাইরে ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা। প্রিয় নেতাকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান কিশোরগঞ্জবাসী।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জ জেলাজুড়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার রাজনৈতিক সহকর্মী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শরীফ আহম্মেদ সাদী জানান, অসুস্থ হয়ে থাইল্যান্ডে যাওয়ার সময়ও তার কাছে দোয়া চেয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, নেতাকর্মীরা আশাবাদী ছিলেন তাদের নেতা দেশে ফিরে আবার মন্ত্রী হবেন। কিন্তু তার আগেই মৃত্যু তাকে সবার কাছ থেকে আলাদা করে নিল।

বিন্নগাঁও এলাকার মো. পপিন লস্করসহ কয়েকজন জানান, কিশোরগঞ্জে তার মতো সৎ ও জনদরদি নেতার অভাব কখনো পূরণ হবে না। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামরুল আহসান শাহজাহান বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন অন্যতম রাজনৈতিক সংগঠক। তাকে ছাড়া কিশোরগঞ্জের আদর্শ রাজনীতিতে শূন্যতা বিরাজ করবে।

ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হলে ৬৮ বছর বয়সী সৈয়দ আশরাফ থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। গত বৃহস্পতিবার রাতে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। তার অনুপস্থিতিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের ভোটাররা তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালে ময়মনসিংহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে তার বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাকা-ের পর তিনি যুক্তরাজ্য চলে যান। প্রবাস জীবনে যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে নির্বাচন করে তিনি সংসদ সদস্য হন। পরে ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালেও নির্বাচিত হন। 

রাজনৈতিক জীবনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। টানা দুবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ অলংকৃত করেন। এই সময়ে অতিকথন ও ক্ষমতার দম্ভ সৈয়দ আশরাফকে স্পর্শ করতে পারেনি। তদবিরবাজ, মতলববাজ, সুবিধাবাদীরা যেমন তার কাছে ভিড়তে পারেননি, তেমনি দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের ন্যূনতম কলঙ্কের ছিটেফোঁটাও তার গায়ে লাগেনি।