বাগেরহাটে ছয় বছর বন্ধ প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্র

বাগেরহাটের পুরুষ শারীরিক প্রতিবন্ধীদের গ্রামীণ পুনর্বাসন কেন্দ্রটি (আরআরসি) গত ছয় বছর ধরে বন্ধ। এই কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ ও আবাসিক ভবনগুলো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে সরকারের সমাজসেবা বিভাগ। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সরকারের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় অধিবাসীরা। তারা এই প্রতিষ্ঠানটি আবার চালু করতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তবে সমাজসেবা বিভাগ বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটিকে আবার চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

সারা দেশের পুরুষ শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকার দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এর একটি ঢাকার গাজীপুরে এবং অন্যটি বাগেরহাটে। গাজীপুরেরটি চালু থাকলেও বাগেরহাটেরটি গত ছয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এখানে মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ, দর্জিবিদ্যা এবং গবাদিপশু ও হাঁসমুরগি খামার নামে তিনটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। একেকটি ট্রেডে দশজন শারীরিক প্রতিবন্ধী (দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যতীত) এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে আসছিল। এখানে বিনামূল্যে থাকা-খাওয়াসহ প্রশিক্ষণার্থীদের ফিরে যাওয়ার সময় চার হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হতো। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ওই প্রতিবন্ধীরা নিজ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেত। গত তিন দশকেরও বেশি সময়ে এখানে সাড়ে তিনশ’র বেশি শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ নিয়েছে।  শারীরিক প্রতিবন্ধীদের আবাসিক ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার না করায় নষ্ট হচ্ছে। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

২০১২ সালে গতপূর্ত বিভাগ প্রশিক্ষণার্থীদের আবাসিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় কর্তৃপক্ষ সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। ফকিরহাটের বাসিন্দা খান মাহমুদ আরিফুল হক বলেন, পিছিয়ে পড়া অবহেলিত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করার প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা দুঃখজনক। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হোক। ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফুল কামাল কারিম বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধীরা এখানে এসে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হচ্ছিল। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের এই প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করার দাবি জানাচ্ছি।

সমাজসেবা বিভাগ বাগেরহাট কার্যালয়ের উপপরিচালক কানিজ মোস্তফা বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর জন্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছি। সম্প্রতি অধিদপ্তরের একজন পরিচালক ভবনটি পরিদর্শন করেছেন।