বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে ঢাকা-বরিশাল রুটের দুই লঞ্চের ধাক্কায় মো. সাকিব (১৮) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় নূর মোহাম্মদ নামে অপর এক যাত্রী আহত হয়েছে। আহত যাত্রীকে রোববার ভোররাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শনিবার রাত একটার দিকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ এবং চাঁদপুর জেলার সীমান্তবর্তী মেঘনা নদীর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. সাকিবের বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায়। সে ঢাকায় দরজির কাজ করত। আহত নূর মোহাম্মদের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে।
নিহত সাকিবের সহযাত্রী প্রত্যক্ষদর্শী মো. রিপন জানায়, রাতে বরিশাল থেকে তারা অ্যাডভেঞ্চার-৯ নামের লঞ্চে ঢাকা যাচ্ছিলেন। রাতে যাত্রী বোঝাই লঞ্চটি চরে আটকে যায়। রাত একটার দিকে তীব্র ঝাঁকুনিতে ঘুম ভেঙে যায়। জেগে দেখন পেছনে অন্য একটি লঞ্চ সজোরে আছরে পড়েছে। তারা ছয় যাত্রী অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের ইঞ্জিন রুমের পাশে ছিলেন। লঞ্চের ধাক্কায় লোহার অ্যাঙ্গেল এসে পরে সোহাগের মাথায়। লোহার অ্যাঙ্গেলের আঘাতে গুরুতর আহত হয় সাকিব ও নুর মোহাম্মদ। পরে ঢাকা থেকে আসা অ্যাডভেঞ্চার-১ নামের অপর একটি লঞ্চ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ওই লঞ্চে নিহত ও আহতদের নিয়ে বরিশাল আসে। ভোর রাত চারটার দিকে সাকিব ও নূর মোহাম্মদকে নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসক অনেক আগেই সাকিবের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান। আহত নুর মোহাম্মদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খান সাদ্দাম নামে অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চ কর্তৃপক্ষের একজন জানান, রাত ১২টার দিকে লঞ্চটি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ এবং চাঁদপুর জেলার সীমন্ত মেঘনা নদীর চরে আটকে পরে। রাত একটার দিকে সুন্দরবন-৬ নামের একটি লঞ্চ পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের ইঞ্জিন রুম অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের মালিক মো. নিজাম উদ্দিন জানান, ঘনকুয়াশায় অ্যাডভেঞ্চার-৯ চরে আটকে যায়। পেছন থেকে অন্য একটি লঞ্চের ধাক্কায় অ্যাডভেঞ্চার-৯ এর এক যাত্রী মারা গেছে। আহত হয়েছে অন্য এক যাত্রী। রাতেই অ্যাডভেঞ্চারের অন্য একটি লঞ্চ আহত ও নিহতদের বরিশালে নিয়ে আসে। পরে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।