আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘পাবুক’ আরো উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ক্রমশ দুর্বল হয়ে একটি গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় পাবুক দুর্বল হয়ে গেছে। এটা এখন গভীর নিম্নচাপ হিসেবে আছে। সতর্কসংকেত বাড়ার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই।’
এর আগে গতকাল সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করলেও সন্ধ্যা ৬টায় আরও এগিয়ে এসে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। পরে এটি দুর্বল হয়ে গভীর নি¤œচাপে রূপ নেয়।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।