ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এখন থেকে একই ছাদের নিচে মিলবে জরুরি রোগীর সব ধরনের চিকিৎসাসেবা। আগের মতো আলাদা বিভাগে বিভাগে ছুটতে হবে না রোগীকে।
জরুরি বিভাগে ‘ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে’ মিলবে সব ধরনের সেবা। ফলে সংকটাপন্ন অনেক রোগীর জীবন বাঁচবে বলে আশা করছেন হাসপাতালটির পরিচালক।
গতকাল রবিবার দুপুরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহেদ মালেক স্বপন নতুন এ চিকিৎসা সেবার উদ্বোধন করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরউদ্দিন জানান, তার প্রতিষ্ঠানটি দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল।
২৬০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ১৫০০ রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেয়।
এর আগে বিপুলসংখ্যক রোগীর জন্য জরুরি বিভাগের মাত্র দুজন ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ও চারজন ক্যাজুয়ালিটি চিকিৎসকের পক্ষে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া কষ্টসাধ্য ছিল।
এ সমস্যার সমাধানে জরুরি বিভাগে ১৫ শয্যার অত্যাধুনিক ও জীবনরক্ষাকারী নতুন চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।
যেখানে রয়েছে ছয়টি হাই-ডিপেন্ডেন্সি ও পাঁচটি স্পেশাল অবজারভেশন বেড। এছাড়া রোগীর জীবনরক্ষাকারী সব সুবিধাও রয়েছে।
পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য পাঁচ শয্যার ক্যাজুয়ালিটি অবজারভেশন কক্ষও চালু হয়েছে। যেখানে রয়েছে পাঁচটি মাইনর ওটি এবং ইসিজি, নেবুলাইজেশন ও কার্ডিয়াক মনিটরসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি।
নতুন ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে সিটি স্ক্যান মেশিন, ডিজিটাল এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ একটি ছোট আকারের প্যাথোলজি ল্যাবরেটরিও চালু হয়েছে।
জরুরি বিভাগে আসা রোগীরা ২৪ ঘণ্টাই এসব সেবা নিতে পারবেন বলে জানান ঢামেক পরিচালক।
ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টার উদ্বোধন শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহেদ মালেক স্বপন বলেন, আগে এই হাসপাতালে আসা জরুরি রোগীদের বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে করতে এবং চিকিৎসার ধীরগতিতে অনেক রোগীর মৃত্যু ঘটত।
এখন ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে সব চিকিৎসা সেবা পাওয়ায় অনেক রোগীর জীবন বাঁচবে।
পর্যায়ক্রমে রাজধানীর অন্যসব হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালেও একই ধরনের সেবা চালু হবে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।