বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরে নিজের প্রথম ম্যাচেই দারুণ পারফরম্যান্সে দলকে জিতিয়েছেন শহীদ আফ্রিদি। রোববার সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জয়ের নায়ক আফ্রিদি পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও। বল হাতে ১ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে করেন অপরাজিত ৩৯ রান। এদিন দুর্লভ এক মাইলফলকও গড়েছেন আফ্রিদি।
সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলে মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ৩০০ উইকেটের সঙ্গে ৪০০০ রানের কীর্তি গড়েছেন আফ্রিদি। অনন্য এই ডাবল আছে মাত্র দুই ক্রিকেটারের। ডোয়াইন ব্রাভো ও সাকিব আল হাসানের পর আফ্রিদি তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই ডাবল গড়ার কৃতিত্ব দেখালেন।
কুমিল্লা-সিলেট ম্যাচ শুরুর আগে আফ্রিদি একটু আড়ালে ছিলেন। এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় চরিত্র ছিলেন দুজন- স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। বল টেম্পারিং কাণ্ডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপাতত নিষিদ্ধ দুজনের একসঙ্গে এদিন অভিষেক বিপিএলে। দুই দলের অধিনায়ক হয়ে মুখোমুখি হলেন দুই অস্ট্রেলিয়ান।
তবে ওয়ার্নার-স্মিথকে পেছনে ফেলে আলোয় ভাস্বর আফ্রিদি। চাপের মুখে ২৫ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয় উপহার দেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার। ৩৮ বছর বয়সী আফ্রিদি হাঁকিয়েছেন ৫ চার ও ২ ছক্কা। কুমিল্লা ১২৮ রানের লক্ষ্য তাতে পেরোয় ১ বল হাতে রেখে। এরআগে বোলিংয়ে ৪ ওভার বল করে ২৯ রানে ১ উইকেট নেন আফ্রিদি। একটি ওভার দেন মেইডেন।
মিরপুরে ম্যাচটি খেলতে নামার আগে সবধরনের টি-টোয়েন্টিতে আফ্রিদির উইকেট সংখ্যা ছিল ৩০৮টি। আর রান ছিল ৩৯৮২। অর্থাৎ ডাবল গড়তে ১৮ রান প্রয়োজন ছিল তার। ৩৯ রানের ইনিংস খেলার পথেই ব্রাভো ও সাকিব আল হাসানের পর দুর্দান্ত ডাবলের কীর্তি গড়েন আফ্রিদি।
সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ক্যারিবিয়ান তারকা ডোয়াইন ব্রাভোর রান ৬০৮২, উইকেট ৪৬৪। ৪২১ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২৮১ ম্যাচে সাকিবের রান ৪৪৫৫, উইকেট ৩২২।
পাকিস্তানি তারকাদের মধ্যে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে চার হাজার রানের কীর্তি হলো আফ্রিদির। এর আগে আহমেদ শেহজাদ (৫৪০৯), কামরান আকমল (৫৩৩১), উমর আকমল (৫১৫৩) ও আজহার মাহমুদ (৪০৯১) সবচেয়ে ছোট সংস্করণের ক্রিকেটে এই কীর্তি গড়েছেন।