মাছের পাখনা, পটকা ও আঁশ সাধারণত ফেলনা বস্তু মনে করা হয়। কিন্তু এগুলো ঘিরে চলছে কোটি টাকার ব্যবসা। হাঙরসহ মাছের পটকা, পাখনা, কান রপ্তানি করে বছরে ১৫ কোটি টাকা আয় হচ্ছে বলে জানান চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আশুতোষ দাস আশু। জাপানি ফিশ অ্যান্ড ব্রাদার্সের সঙ্গে যুক্ত আশুতোষ বলেন, দিন দিন এ ব্যবসা কমছে। একসময় নগরীর ফিশারিঘাট এলাকায় হাঙর রাখার জায়গা থাকত না। তখন পাখনা, ফুলকা, কানসহ পুরো সেটের ব্যবসা থাকলেও এখন আগের মতো বড় হাঙর আসে না। জাপান, ফিলিপাইন ও চীনে হাঙরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিপুল চাহিদা রয়েছে। ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা জানান, গভীর সমুদ্রে একসময় ব্লু শার্ক, টাইগার শার্ক, হেমারহেড শার্ক, কালা হাঙরসহ ১০ প্রজাতির হাঙর পাওয়া গেলেও এখন সেই পরিমাণে নেই। বর্তমানে হেমারহেড হাঙরের চাহিদা বাড়লেও মূলত রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারে এগুলো বিক্রি হয়।
আশুতোষ দাস জানান, ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ে কিন্তু হাঙর বাচ্চা দেয়। ফলে হাঙর পেটের বাচ্চাসহ জেলেদের জালে আটকা পড়ে। প্রজনন হ্রাস পাওয়ায় হাঙর কম আসছে বাজারে। তিনি জানান একটি হাঙরের দুটি কান, একটি লেজ, একটি পাখনা মোট চারটি অংশ এক সেট করে বিভিন্ন গ্রেডে আকার ও মান অনুযায়ী বিক্রি হয়। প্রতি কেজি হাঙর কিনতে হয় ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে। এরপর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ শুকিয়ে রপ্তানি করা হয়।
এ ব্যবসায়ী জানান, চট্টগ্রামে পাঁচ থেকে ছয়জন হাঙরের পাখনাসহ সামুদ্রিক মাছের পটকা রপ্তানি করে। মাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত লোকজন এবং মাছ বিক্রেতাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা পটকা ও পাখনা প্রক্রিয়াজাত হয় কারখানায়। কাঁচা পটকা ও পাখনা সংগ্রহের পর প্রথমে রোদে শুকানো হয়। কয়েক দিন শুকানোর পর তা শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়। এরপর তা ওজন করে প্যাকেট করা হয়। শুকনা পাখনার কেজি বিক্রি হয় ২০-২৫ হাজার টাকায়। আর কাঁচা পটকার দাম কেজিতে ১৫-৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। স্বাধীনতার আগে থেকে হাঙরের পাখনা ফুলকা এবং সামুদ্রিক মাছের আঁশ বিক্রি করছে জাপানি ফিশ অ্যান্ড ব্রাদার্স। কোম্পানির স্বত্বাধিকারী সুধাংশু দাস জানান, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে লাক্কা, কোরাল, কৈ কোরাল, লাল কোরাল, শাপলা পাতাসহ বিভিন্ন মাছের পটকা; বড় মাছের আঁশ, লেজ, কাঁচা পাখনা সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে বিভিন্ন গ্রেডে ভাগ করে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়।
নগরীর ফিশারিঘাট বাজারে মাছ কাটেন হরিরাম দাস। তিনি জানান, বড় মাছের কাঁচা আঁশ এবং ভালো পটকা আকারভেদে বিভিন্ন দামে কেজি হিসেবে বিক্রি হয়।