টাঙ্গাইলে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে

টাঙ্গাইলে নেশাদ্রব্যের ব্যবহার এতটাই বেড়েছে যে, হাত বাড়ালেই মিলছে নানা রকমের মাদক। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গাঁজা, হেরোইন ও ইয়াবাসহ মাদকের রমরমা কারবার চলছে। ফলে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে মাদকাসক্তদের সংখ্যা। বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের পাশে কালিহাতীর এলেঙ্গা হয়ে জেলার ১২টি উপজেলায় ঢুকছে মরণ নেশা মাদক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, শুধু জেলা ও উপজেলা শহরেই ৯০০-এর বেশি মাদক ব্যবসায়ী প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দেদার মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সেগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে শহর থেকে গ্রামে। এদের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য নিয়মিত টাকা নিয়ে মাদকের কারবার দেখেও না দেখার ভান করছেন।

বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর থেকে হেরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজা পাচারের নিরাপদ পথে পরিণত হয় বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক। তাই সেতু হয়ে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, দুর্গাপুর, সল্লা ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব বাসস্ট্যান্ড এবং ভূঞাপুর উপজেলার গবিন্দাসী বাজারের কয়েকটি স্থানে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গ থেকে আসা বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য বেচাকেনা চলে। এলেঙ্গা এলাকায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অন্তত ছয়টি অভিযানে মাদক বহনকারী ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ ২২ হাজার বোতলের বেশি ফেনসিডিল ও প্রায় ২০০ কেজি গাঁজা আটক করে পুলিশ। এরপর মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে পরিচিতি পায় এলেঙ্গা। কিন্তু ২০১৫ সালের পর এই পথে বড় ধরনের মাদকের কোনো চালান আটক হয়নি। অথচ জেলার বিভিন্ন স্থানে সহজেই মিলছে মাদক। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন নতুন মাদকাসেবীর সংখ্যা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান জানান, গত বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত জেলায় পুলিশ মাদকের মামলা করেছে এক হাজার ২৬৭টি, আসামি করা হয়েছে দুই হাজার ৩৭ জনকে। গ্রেপ্তার হয়েছে এক হাজার ৭৪৫ জন।