ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের তিন কেন্দ্রে পুনঃভোটে নিরাপত্তার তোড়জোড়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্থগিত তিনটি কেন্দ্রের পুনঃভোট গ্রহণ করা হবে বুধবার। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পুনঃভোটের কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- আশুগঞ্জ উপজেলার ৯৪নং কেন্দ্র যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০৯নং কেন্দ্র বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১১০নং কেন্দ্র সোহাগপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

পুনঃভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জ উপজেলার যাত্রাপুর, বাহাদুরপুর ও সোহাগপুর এলাকা এখন সরগরম। দেশের ভেতরের বিভিন্ন স্থানে থাকা ভোটাররা যেমন সপরিবারে ভোট দিতে গ্রামে এসেছেন। তেমনি প্রচুর প্রবাসী ভোটারও দেশে এসেছেন শুধুমাত্র এবারের পুনঃ ভোটে ভোট প্রদানের জন্য।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্র তিনটির ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়। পুনঃভোট গ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করবার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানালেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান।

তিনি জানান, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে ভোটকেন্দ্র। ভোটাররা সম্পূর্ণ নিরাপদে ভোট প্রদান করতে পারবেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে তিনটি বন্ধ হওয়া কেন্দ্রে পুনঃভোট গ্রহণের জন্য পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে ৪টি মোবাইল ফোর্স, ২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ২ প্লাটুন বিজিবি ও ২টি র‌্যাবের টিম মোতায়েনের কথা বলা হলেও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও বেশি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা, তিনজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্র ও মোবাইল টিমের দায়িত্বে থাকবেন। কেন্দ্র ও ভ্রাম্যমাণ মিলিয়ে পাঁচশ’ পুলিশ, র‌্যাবের ৪টি টিম ও বিজিবির চার প্লাটুন সদস্য মোতায়েন থাকবে।

এই আসনের মোট ১৩২ কেন্দ্রের মধ্যে ৩০ ডিসেম্বর ১২৯ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে।

এতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া পেয়েছেন ৮২ হাজার ৭২৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহসভাপতি মো. মঈন উদ্দিন মঈন ‘কলার ছড়ি’ প্রতীকে পেয়েছেন ৭২ হাজার ৫৬৪ ভোট। স্থগিত তিন কেন্দ্রে ভোট রয়েছে ১০৫৭৪টি।