বিলুপ্তির পথে সাড়ে ৫০০ বছরের পুরনো মসজিদ

উত্তরের জেলা দিনাজপুরে সাড়ে ৫০০ বছরের পুরনো একটি নিদর্শন চেহেলগাজী মাজার শরিফ সংলগ্ন মসজিদ। অযত্ন আর অবহেলায় বর্তমানে ধ্বংসের পথে প্রাচীন এই স্থাপনা। অবিলম্বে সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে এই ঐতিহ্য একেবারে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। দিনাজপুর শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে চেহেলগাজী মাজার। মাজারের সঙ্গেই রয়েছে এ মসজিদ। এটি জেলার প্রথম মসজিদ বলে ধারণা করা হয়।

মসজিদ ও মাজারের খাদেম মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একদল গবেষক নকশা দেখে মসজিদটি সুলতানি আমলের নিদর্শন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া মসজিদে নির্মাণকাল নির্দেশক তিনটি শিলালিপি ছিল। এর একটি দিনাজপুর জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এই শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৪৬০ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সে হিসেবে এ স্থাপনার বয়স ৫৫৯ বছর।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু তোয়াব মো. শাহরিয়ার জানান, নির্মাণ সাল জানা গেলেও মসজিদটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এটি সংস্কারে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া দরকার বলে মত দেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদের অলঙ্কৃত মেহরাব অরক্ষিত, অনেকাংশ ভেঙে গেছে। এর দুই পাশে দুটি ছোট মেহরাবের অবস্থাও একই। মসজিদটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট এবং সামনে একটি সুসজ্জিত দরজা ভেদ করে বারান্দা। সামনে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে দরজা রয়েছে। অনেক অংশ ভেঙে যাওয়ায় দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি মসজিদ নাকি পুরনো ইট-সুরকির স্তূপ।

পুরনো এ স্থাপনার পাশে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন আরেকটি মসজিদ। তাতে জায়গা সংকুলান না হলে অনেকে পুরনো এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন। বর্তমানে ৩০-৪০ জনের নামাজ পড়ার মতো জায়গা আছে। জানা যায়, সাবেক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুর রহমান সরকারিভাবে পুরো মসজিদের উপরিভাগে টিনের চালা দিয়েছেন। তাতে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেলেও সংস্কার বা সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় মসজিদটি হারিয়ে যেতে বসেছে।

বর্তমান ইউএনও মো. ফিরুজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রকল্প প্রণয়ন করে শিগগির মসজিদটি সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাজার এলাকার আবদুল মান্নান (৬৫) ছোটবেলা থেকেই মসজিদটি দেখে আসছেন। তিনি জানান, দিন দিন এটি ভেঙে গিয়ে আরও ছোট হয়ে এসেছে। দিনাজপুরের এ ঐতিহ্য রক্ষা করা দরকার। প্রতিদিন এই মাজার ও মসজিদ দেখতে অনেক দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। রংপুর থেকে আসা মাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি জানতাম না এখানে ৫৫০ বছরে পুরনো একটি মসজিদ আছে। এটা আমাদের কাছে একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। আগামী প্রজন্মের কাছে কালের সাক্ষী হিসেবে মসজিদটি রক্ষা করা দরকার।