ঝুঁকিপূর্ণ ফেনীর শুভপুর সেতু ভেঙে পড়ার শঙ্কা স্থানীয়দের

দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকায় ৬৬ বছরের পুরনো মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতিবিজড়িত ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর সেতু ক্রমেই যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। যে কোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

জানা যায়, ১৯৫২ সালের দিকে আরসিসি স্লাবের ওপর বেইলি ট্রাস দিয়ে ফেনী নদীর ওপর ১২৯ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। পরে নদীর প্রশস্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯৬৮ সালে সেতুটি আরও ২৪৯ মিটার সম্প্রসারণ করায় এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৩৭৪ মিটারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুভপুর সেতুর কাছেই বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। আর এতেই ব্রিজের মূল পিলারগুলোর নিচে থেকে মাটি সরে গেছে। ফলে সেতুটির পশ্চিমাংশ যেকোনো সময়ে ধসে পড়তে পারে। তাছাড়া প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় এর পাটাতনের ঢালাই নষ্ট হয়ে গেছে। লোহার রেলিং ও নাট-বল্টু খুলে চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এখন ছোট যানবাহন পার হলেও এটি কাঁপতে থাকে। দুর্ঘটনা এড়াতে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক বিভাগ। খুঁটি গেঁথে রাখায় বাস অথবা পণ্য বোঝাই ট্রাক এ সেতু অতিক্রম করতে পারে না।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় সেতুটির এক দিকে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। সেতুর ১০ নং পিলারে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এটিকে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিলে এ অংশ হানাদারমুক্ত হয়ে যায়। তিনি জানান, এখনো সেতুর বিভিন্ন স্থানে গোলা-বারুদের চিহ্ন পাওয়া যাবে। স্বাধীনতার পর এটি সংস্কার করে আবার চালু করে দেওয়া হলে স্মৃতি স্বরূপ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে শুভপুর সেতুর চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর আবদুল হান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ সেতুকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধাদের নানা স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এটি সংস্কার করলে সেই স্মৃতি রক্ষা পাবে। ফেনীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন জানান, শুভপুর সেতুটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাশে আরেকটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সয়েল টেস্টও সম্পন্ন হয়েছে।