নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরচেঙ্গা-বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট নৌপথে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে প্রায় দেড় বছর। ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে সি-ট্রাক না থাকায় যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে মেঘনা পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ নৌপথের যাত্রীদের দীর্ঘদিন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাতিয়া থেকে যাত্রীরা সি-ট্রাকে মেঘনা পার হয়ে জেলা সদর ও অন্যান্য জায়গায় যাতায়াত করতেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও যাত্রীরা সি-ট্রাকে মেঘনা পাড়ি দিয়ে হাতিয়া আসতেন। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ হয়ে যায় এ সি-ট্রাক চলাচল। বন্ধ হওয়ার পর খারাপ আবহাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা মাছ ধরার ট্রলারে (ইঞ্জিনচালিত নৌকা) উত্তাল মেঘনা পাড়ি দেন। ভাড়া দিতে হয় সি-ট্রাকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। সি-ট্রাক না থাকায় দীর্ঘদিন ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, অসুস্থ রোগী, অন্তঃসত্ত্বা ও শিশুসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঝড়বৃষ্টি বা প্রখর রোদের মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় নিয়ে মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন।
গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে তমরদ্দি সি-ট্রাক ঘাটে কথা হয় ট্রলারের যাত্রী গুরুতর অসুস্থ বৃদ্ধা অজিফা খাতুন, প্রবাসী মাকসুদের রহমান ও রাজমিস্ত্রি জিয়াউল হকের সঙ্গে। তারা জানান, সি-ট্রাক না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা হাতিয়া থেকে ট্রলারে বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাটে যাচ্ছেন। তাদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) সি-ট্রাক পরিচালনার জন্য প্রতি বছর চুক্তিভিত্তিক ইজারাদার (চার্টারার) নিয়োগ দেয়। গত রবিবার বিকেলে ইজারাদার গোলাম মাওলা কাজলের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিগগিরই চরচেঙ্গা-বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট নৌপথে সি-ট্রাক চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।