যশোরের মণিরামপুরে স্কুলছাত্র অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক কিশোর পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বুধবার ভোরে মণিরামপুরের নেহালপুর সড়কের কামালপুর জোড়া ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বিল্লাল হোসেন (১৬) মণিরামপুরের খেদায়পুর গ্রামের মোস্তফা হোসেনের ছেলে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন জানান, নিহত বিল্লাল গত ৬ জানুয়ারি রোববার মনিরামপুরের গোপালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র তারিফ হোসেনকে (৯) অপহরণ করে। এরপর সে তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা মঙ্গলবার দুপুরে কেশবপুরের একটি বিকাশের দোকানে আনতে যায় বিল্লাল। এ সময় তারিফের মামা কেশবপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিল্লালকে আটক করে। এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাতে মণিরামপুরের নেহালপুর সড়কের কামালপুর জোড়া ব্রিজের কাছ থেকে তারিফের লাশ উদ্ধার করতে যায় পুলিশ।
এ সময় বিল্লালের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করলে বিল্লাল নিহত হয়। পরে ওই ব্রিজের নিচ থেকে তারিফের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত তারিফ ও বিল্লালের লাশ যশোর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি শটগান ও একটি গুলি উদ্ধার করেছে।
বিল্লাল কেশবপুর ভরতপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয় বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মজনুর রহমান।
এ ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- লিমা খাতুন ও মাসুম বিল্লাহ।
ওই শিক্ষক ও স্থানীয়রা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তাদের (অভিযুক্তদের) দেখে কখনো মনে হয়নি তারা এ ধরনের কাজ করবে।