খাদিজা নামে এক গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযোগ দেওয়ার পরও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ।
পাশাপাশি ওই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে যারা ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ-সংক্রান্তে এক রিট আবেদনের ওপর বুধবার শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজি আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
খাদিজাকে নির্যাতনের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের (সিসিবি) পক্ষে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এম আব্দুল হালিম শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল।
আইনজীবী আব্দুল হালিম জানান, ২০১৩ সালে রাজধানীর মিরপুরে ১২ বছরের গৃহকর্মী খাদিজাকে তার গৃহকর্তা গরম ইস্ত্রি দিয়ে গায়ে ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতন করে। ওই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে আবেদন করা হয়।
কমিশন ওই ঘটনার প্রতিবেদন ও তথ্য উপাত্ত চেয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি পাঠায়। কিন্তু হাসপাতালের দেওয়া প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের প্রতিবেদনের গরমিল পাওয়ায় কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাগিদপত্র পাঠায়।
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কমিশন কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু তাগিদপত্র পাঠায়। অথচ মানবাধিকার কমিশনের আইনেই বলা আছে কমিশন আইনি প্রতিকারের জন্য উচ্চ আদালতে আসতে পারে। কিন্তু কমিশন তা করেনি। এ কারণে তাদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে এ রিট আবেদনটি করা হয়। আদালত শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দিয়েছেন। আর এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে জানাতে বলা হয়েছে।’
১৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানি বলে জানান এ আইনজীবী।