ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের গঠনতন্ত্র ‘যুগোপযোগী’ করার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সব ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা শুরু হয়।
ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত আছেন ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন। ছাত্র দলের ঢাবি শাখার সভাপতি মেহেদী তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী। ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি ফয়েজউল্লাহ সাধারণ সম্পাদক রাজিব চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা। আলোচনা শুরু হয় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স হলে।
কয়েক দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের চিঠি দিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ অন্যান্য সংগঠন রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করার জন্য ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী/পরিমার্জনের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য মাননীয় ভিসি একটি কমিটি গঠন করেছেন।’
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠনতন্ত্র সংশোধনী/পরিমার্জন কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রাধ্যক্ষ ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান চিঠিগুলো প্রেরণ করেন।
ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ওই চিঠির অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সকল সহকারী প্রক্টরকে প্রেরণ করা হয়।
৫ সদস্যের এই কমিটির অন্য চারজন হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, কবি জসীম উদ্দীন হলের প্রাধ্যক্ষ ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা এবং শামসুন নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সুপ্রিয়া সাহা। ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন-৪) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান কমিটিকে সার্বিক বিষয়ে সহায়তা প্রদান করবে।
কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ডাকসু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে ডাকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগুচ্ছে, সে কারণে এটি করতে হলে বিদ্যমান গঠনতন্ত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা- নাকি কিছু সংযোজন-বিয়োজন প্রয়োজন, ছাত্র সংগঠনসমূহের পরামর্শক্রমে সেই নিরিখে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হবে।
ভিসি সেটি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করবেন। এই কমিটি মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের সুপারিশ করবে বলেও জানান তিনি।