ভোট কারচুপি ও অনিয়মের আশঙ্কা করে আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ নির্বাচন থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা শহরের সার্কুলার রোডের জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক অভিযোগ করেন, তফসিল ঘোষণার পর গাইবান্ধায় ১৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যার মধ্যে জেলখানায় এখনো ৬০ থেকে ৭০ জন রয়েছেন। ভোটের আগে ও পরে ৩ দিন ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। যাতে করে ভোট কারচুপির এসব সংবাদ প্রকাশ না পায়।
তিনি আরও বলেন, যে নির্বাচনে ফলাফল পূর্বনির্ধারিত থাকে। রেজাল্টশিট যেখানে তৈরি করা আছে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আমি আমার নিরীহ ও অসহায় নেতাকর্মীদের আবারও মামলা, হামলা, নিপীড়ন, নির্যাতনের মুখে ঠেলে দিতে চাই না। সেই কারণে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আমি আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম সাজা এবং শহর বিএনপির সভাপতি শহীদুজ্জামান শহীদ প্রমুখ।
প্রথম তফসিলে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী ১৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে মারা যাওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।
গত ২৩ ডিসেম্বর পুনঃতফসিলে চারজন প্রার্থী গত ২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে থেকে ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ দিন শুধু বৈধ ঘোষণা করা হয় অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের মনোনয়নপত্র।
আজ বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
অপরদিকে প্রথম তফসিল অনুযায়ী এই আসনে প্রার্থী রয়েছেন সাতজন। তারা হলেন মহাজোট সমর্থিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. মো. ইউনুস আলী সরকার, জাতীয় পার্টির (জাপা) দিলারা খন্দকার, জাসদের এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি, এনপিপির মিজানুর রহমান তিতু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হানিফ দেওয়ান, বাসদের সাদেকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো. জাহিদ।
তাদের মধ্যে থেকে বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাসদের সাদেকুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হানিফ দেওয়ান।
মোবাইল ফোনে অন্য প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আর কেউই তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। প্রত্যেকেই আগামী ২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. আবদুল মতিন বলেন, এখন পর্যন্ত তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তারা হলেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, সাদেকুল ইসলাম ও হানিফ দেওয়ান। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় আছে।