মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) দাবি করেছে, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের ক্ষেত্রে বিগত বছরের অগ্রগতির ধারা ২০১৮ সালে অব্যাহত থাকলেও নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি।
২০১৮ সালের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল চরম উদ্বেগজনক ছিল মন্তব্য করে আসক দাবি করে গত বছর দেশে বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ার, হেফাজতে ৪৬৬ জন নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৮ পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটি।
আসক জানায়, ৪ মে থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে ২৯২ জন নিহত হয়েছেন।
২০১৮ সালের আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় ছিল বেআইনি আটক, গণগ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর মতো ঘটনা।
আসক জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে কমপক্ষে ৪৭০ সহিংসতার ঘটনায় ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৯, বিএনপির ৪ ও এক আনসার সদস্যসহ ১০ সাধারণ মানুষ নিহত হন।
অন্যদিকে ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৩২ জন। ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে এবং আত্মহত্যা করেছেন সাত নারী। ২০১৭ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮১৮ জন। আর ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭২৪।
আসকের প্রধান নির্বাহী শিফা হাফিজ তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ গত বছর অনেক বেশি হয়েছে। নারী ও শিশু ধর্ষণসংক্রান্ত নির্যাতনও অনেক বেড়েছে। ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের’ বিষয়ে কমিশন গঠন করে তদন্তের দাবি জানান তিনি।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আসকের উপপরিচালক নীনা গোস্বামী ও জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির। নির্বাহী সদস্য তাহমিনা রহমান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।