স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তার ‘দেশে-বিদেশে হাফ ডজন বাড়ি’

রাজধানী ঢাকা ও অস্ট্রেলিয়ায় হাফ ডজন বাড়ি থাকার অভিযোগ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেনকে জেরা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদে গত এক বছরে তার ২৮বার বিদেশ সফরের বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে অর্থপাচার, টেন্ডারবাজিসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। 

এরপর অধিদপ্তরের পরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব করা হয়। এর অংশ হিসেবে উপপরিচালক সামসুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান দল বৃহস্পতিবার আফজালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ১৪ জানুয়ারি অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তারা আরও জানান, আফজাল দম্পতির নামে অস্ট্রেলিয়াতে একটি বাড়ি, রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডে তিনটি পাঁচতলা বাড়ি, একটি প্লট, ১৬ নম্বর রোডে একটি পাঁচতলা বাড়ি এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও ফরিদপুরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে সম্পদের বিষয়ে কিছু তথ্য দিলেও পুরো তথ্য দিতে আরও সময় চেয়েছেন আফজাল হোসেন।

গত সপ্তাহে অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আফজালকে নোটিস পাঠায় দুদক।  এতে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের ফটোকপি, নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ এবং আয়কর রিটার্নের ফটোকপি সঙ্গে আনতে বলা হয়।

অনুসন্ধান দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, আফজালের স্ত্রী রুবিনা খানম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার স্টেনোগ্রাফার। তার নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুলে টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন আফজাল।

‘এ ছাড়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পদে থেকে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন সেক্টরে টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন’।  

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও আফজাল হোসেন গত এক বছরে অষ্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ২৮বার ভ্রমণ করেছেন।  বছরের অধিকাংশ সময় তিনি অফিস না করেও হাজিরা দেখিয়েছেন নিয়মিত।  ইউরোরীপ ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে তার যে ব্যয় হয়েছে, সেই অর্থ তিনি কোথায় পেয়েছেন তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।  

আফজাল ও তার স্ত্রীর বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি এ বিষয়ে দুদক আলাদাভাবে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।