গাজীপুরের ভাওরাইদে স্ত্রীকে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে লাশ লুকিয়ে রাখার অভিযোগে স্বামী সাজাহান মিয়া (২৮) এবং তার সহযোগী খোকন মিয়া (২২) ও মুকুল মিয়াকে (২৫) আটক করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজিপুরের জয়দেবপুর থেকে তাদের আটক করা হয়। নিহতের নাম আফরোজা বেগম (২৬)। হত্যার পর পলাতক ছিল সাজাহান।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৩ জানুয়ারি সকালে স্ত্রী আফরোজা বেগমকে পারিবারিক কলহের জেরে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী সাজাহান মিয়া। হত্যার পর তার বন্ধু খোকন ও মুকুলের সহায়তায় বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে লাশ লুকিয়ে ফেলে।
র্যাব আরো জানায়, ৪ জানুয়ারি মধ্যরাতে হত্যা ও গুমের বিষয়টি জানাজানি হলে সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।
এ ঘটনায় হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র্যাব। ১০ জানুয়ারি বিকেল থেকে র্যাবের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
মুফতি মাহমুদ বলেন, গ্রেপ্তার শাহাজাহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে গত ৩ জানুয়ারি সকালে স্ত্রীর সঙ্গে বাগবিতন্ডার শুরু হয়ে মারামারি পর্যন্ত গড়ায়। রাগের মাথায় গলাটিপে স্ত্রীকে হত্যা করে সে। পরে রাত ১১টার দিকে বন্ধু মুকুল ও খোকনের সহায়তায় লাশ গুম করে।
লাশ গুমের সহায়তার জন্য সাজাহান খোকনকে চার হাজার ও মুকুলকে আড়াই হাজার টাকা দেয়।
গত ৮ বছর আগে গাজিপুরের একটি সুতার কারখানায় কাজ করার সময় আফরোজার সঙ্গে সাজাহানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে তারা। ২০১৬ সালে সাজাহান সৌদি আরব যায় এবং ছয় মাস আগে ফিরে আসে। দেশে আসার পর টাকার হিসাব চাইলে তাদের মধ্যে কলহ শুরু হয়।