সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার শুরু

সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। কোনো স্থান ও সময়সীমার কথা উল্লেখ না করে দেশটিতে আইএসবিরোধী সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল সিন রায়ান গতকাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সিরিয়া থেকে পূর্বনির্ধারিত সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাসাক প্রদেশের রেমিলান বিমানঘাঁটি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে সামরিক জোট। সংস্থার প্রধান রামি আবদেল রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সৈন্যকে ওই বিমানঘাঁটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর এই প্রথম কোনো জায়গা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হলো।’

এদিকে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি মিলিশিয়াদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। এর মধ্যে সীমান্তে হাজারখানেক সৈন্য জড়ো করেছে দেশটি। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু স্থানীয় এনটিভিকে বলেন, ‘মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হোক বা কোনো অজুহাতে তা বন্ধ হোক তবু তুরস্ক কুর্দিদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ ব্যাপারে আমরা কারও অনুমতির অপেক্ষা করব না।’ যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহারের আগে তার কুর্দি মিত্রদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইলেও তা নাকচ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। মার্কিন মিত্র কুর্দিদের সন্ত্রাসী বলে মনে করে তুরস্ক।

গত ১৯ ডিসেম্বর ‘আইএস চরমভাবে পরাজিত হয়েছে’ দাবি করে ট্রাম্প সিরিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। কথিত জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন ছিল বলে মনে করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক মিত্ররা ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ অপরিপক্ব বলে মন্তব্য করেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে আট বছর ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত এ অঞ্চল আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ও আইএস বিরোধী জোটে নিযুক্ত মার্কিন দূত ব্রেত ম্যাকুর্ক পদত্যাগ করেন। সিরিয়া নিয়ে ঘোষণার পর আফগানিস্তান থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা দেশে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন ট্রাম্প।