পঞ্চগড়ে বিলুপ্ত ছিটমহলে ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক

পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ছিলমহলসহ প্রত্যন্ত ও অনগ্রসর এলাকার সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দিতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহে একদিন করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সম্প্রতি জেলার পাঁচ উপজেলার সাতটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন।

প্রত্যন্ত ও অনগ্রসর এলাকার মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। পঞ্চগড়ের চা শ্রমিক, পাথর শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বিলুপ্ত ছিটমহল এলাকার মধ্যে যেখানে কমিউনিটি ক্লিনিক নেই সেখানে এই ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহল, বোদা উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল এলাকা ও আদিবাসী এলাকা, আটোয়ারী উপজেলার আদিবাসী এলাকা, দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল এলাকা ও তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ও বাংলাবান্ধা এলাকায় প্রতি সপ্তাহে বিনামূল্যে ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধ সরবরাহ করবে এই ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক। চা শ্রমিকদের জন্যও স্থান নির্ধারণ করে ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকের সেবা দেওয়া হবে। ক্রমান্বয়ে জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে কমিউনিটি ক্লিনিক নেই সেখানেই এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকের গাড়িতে একজন মেডিকেল অফিসার ও জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধিসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা থাকবেন। নির্ধারিত দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ব্যবস্থাপত্র প্রদানসহ বিনামূল্যে ওষুধ দেবেন তারা। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকের সেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা।  পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহলের বাসিন্দা খোদেজা খাতুন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ৬৮ বছর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে গিয়ে আমাদের চিকিৎসা নিতে হতো। যাতায়াত খরচের পাশাপাশি অনেক সময় নষ্ট হতো। কিন্তু এখন বাড়ির কাছে এসে ডাক্তাররা আমাদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।’

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছেন। যেখানে এখনো কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে ওঠেনি এবং যারা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর একেবারে দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্যই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।