দুর্গাপুরে কৃষিশ্রমিক সংকটে বোরো চাষ ব্যাহত

নেত্রকোনার সীমন্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শীত, কনকনে বাতাস ও কুয়াশার কারণে কৃষিশ্রমিক সংকটে বোরো চাষ ব্যাহত হচ্ছে। শীত ও কনকনে বাতাসের কারণে ৪০০ টাকার দিনমজুর ৫০০ থেকে ৬০০ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পাহাড়ি অঞ্চলে আদিবাসী দিনমজুরদের চাহিদা বেশি থাকায় কেউ কেউ অগ্রিম টাকা দিয়েও কৃষিকাজে দিনমজুর পাচ্ছেন না।

দুর্গাপুর উপজেলার বারোমারী, লক্ষ্মীপুর, ফান্দা, গোপালপুর, নলুয়াপাড়া, দাহাপাড়া, ভবানীপুর, বিজয়পুর, রানীখং, আড়াপাড়া গ্রামে দিনমজুর থাকলেও তারা কৃষিকাজ ছাড়া অন্য কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বেশি।

এবার পাহাড়ি এলাকায় শীতের প্রভাব বেশি থাকায় প্রায়ই ঘনকুয়াশায় ঘিরে থাকে। কাজের ফাঁকে প্রতি ঘরেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে সাধারণ মানুষ। জাগিরপাড়া গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে যদি আর ১৫ দিন চলতে থাকে, তাহলে আমার মতো অনেকেই এবারের বোরো আবাদ করতে পারবে না। দিনমজুরের অভাবে অনেক কৃষকই এখনো ধানের ক্ষেত তৈরি করতে পারেনি।’

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ধানের এলাকা হিসেবে খ্যাত দুর্গাপুরে এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ হাজার হেক্টর। জানামতে, এখনো অর্ধেক জমি তৈরি হয়নি। এভাবে শীত ও কনকনে বাতাস বইতে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের ৯৫ শতাংশ পানি নেমে যাওয়ায় বোরো জমি জেগে উঠেছে। আর কিছু নিচু স্থানে পানি রয়ে গেছে। কৃষকরা বলছেন, আমনে বাম্পার ফলনে এবার বোরো জমিতেও ধানের ভালো ফলনের আশায় চাষাবাদের উপযোগী করতে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছে। ২০১৬ সালের বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ২০১৭ সালে বাম্পার ফলন গোলায় তোলে কৃষক। এবার চিত্র অনেকটাই ভিন্ন দেখা গেছে।

জেলার কমলাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামের কৃষক মঞ্জিল মিয়া বলেন, ‘আমনে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছে। তাই এবার বোরো চাষে অন্য বছরের চেয়েও অনেক কৃষক এগিয়ে এসেছে। গত বছর দুই একর জমি করেছিলাম। তবে ধানের দাম নিয়ে এবারও চিন্তিত।’

নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, শীতে পাহাড়ি অঞ্চলের শ্রমিকের সংকট থাকলেও সার্বিক অবস্থা এবার ভালো। তা ছাড়া হাওরের প্রতিবছরই ভর্তুকি দেওয়া হয়। তাই এবার হাওরের বাসিন্দারা নতুন উদ্যম নিয়ে বোরো উৎপাদনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। তনি আরো বলেন, এ বছর এ জেলায় এক লাখ ৮১ হাজার ৯৫২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে হাওরাঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে প্রায় ৪১ হাজার হেক্টর। বিশেষ করে খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দা এ চারটি উপজেলায় এরই মধ্যে ৩৭ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও বি-৫৮ জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে আর সবকিছু ঠিক থাকলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছি। এ ছাড়া আমাদের মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।’