ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বালিয়াটীর ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়িকে কেন্দ্র করে পর্যটন বিকাশের প্রধান বাধা যোগাযোগ। ঢাকা থেকে সাটুরিয়া পর্যন্ত সড়ক ভালো থাকলেও মানিকগঞ্জ থেকে এখানকার প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা নাজুক। তার সঙ্গে এখানে সাটুরিয়াগামী ভালো মানের পরিবহন ও হোটেল না থাকায়ও এখানকার পর্যটন বিকশিত হচ্ছে না। ওই সময়ে তিনি বড় মাপের একজন লবণ ব্যবসায়ী ছিলেন। বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আছে। সাতটি খণ্ডে বিভক্ত বাড়িটিতে আছে বিভিন্ন স্থাপনা, যাতে প্রায় দুই শতাধিক কোঠা আছে। বাড়ির উত্তরে দিকে আছে ছয় ঘাটের একটি পুকুর। চারদিকে সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা জমিদারবাড়িটির দক্ষিণ প্রাচীরে আছে একই ধরনের চারটি খিলান। প্রতিটি বড় গেটের ওপর আছে একটি করে সিংহ। প্রতিটি ভবনের সামনে আছে কাঠের সিঁড়ি, লোহার বিম, ঢালাই লোহার প্যাঁচানো সিঁড়ি ও জানালায় আছে রঙিন কাচ। রংমহলের ভেতরে আছে বিশাল আকৃতির বেলজিয়াম আয়না, কারুকার্যখচিত দেয়াল ও আকর্ষণীয় ঝাড়বাতি।
বালিয়াটী জমিদারবাড়ির কেয়ারটেকার ইব্রাহিম জানান, শীত মৌসুমের শুরু থেকেই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় বেড়ে যায়। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবারে বেশি চাপ থাকে। জমিদারবাড়ির কাছেই মিনি পার্ক, ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও রামকৃষ্ণ মিশনসংলগ্ন বালিয়াটী উত্তরে আছে মাঠ। সেখানে পর্যটকেরা মঞ্চ করে দুপুরের খাবারসহ বিভিন্ন আয়োজন করে। কম খরচের ব্যবস্থা থাকায় জমিদারবাড়ি সবার পছন্দের হয়ে উঠেছে। বালিয়াটী জমিদারবাড়িতে প্রবেশের টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, ছোটদের জন্য পাঁচ টাকা, বড়দের ২০ টাকা, সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ১০০ টাকা এবং অন্য দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ২০০ টাকা টিকিটমূল্য ধরা হয়েছে। প্রতিদিন শত শত পর্যটক এখানে ভিড় করে। তিনি বলেন, সাটুরিয়া-বালিয়াটী জমিদারবাড়ির তিন কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গাবতলী থেকে সাটুরিয়া সড়কে ভালো যানবাহন নেই। মাত্র দেড় ঘণ্টার সড়কে বাসে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। আবার মানিকগঞ্জ থেকে বালিয়াটী জমিদারবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্র্তৃপক্ষ। ফলে বালিয়াটী জমিদারবাড়িতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বালিয়াটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘বালিয়াটী-মানিকগঞ্জ সড়কটি পুনঃসংস্কারের কাজ এর মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কাজটি শেষ হলেই আমাদের পর্যটন আরও বিকশিত হবে।’
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস বলেন, এ বাড়ি থেকে বালিয়াটী ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ওয়ার্ক ওয়ে ও সিবিটি সেন্টার নির্মাণের জন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে।