ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরুর চার দিন পরও খালি পড়ে আছে শতাধিক স্টল। এর মধ্যে কয়েকটির নির্মাণকাজ চলছে। অনেকে স্টল বরাদ্দ নিয়েও লোকসানের আশঙ্কায় নির্মাণকাজ করছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতবারের তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণ করায় আগ্রহ হারিয়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরা।
কয়েকজন ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে জানান, গতবারের তুলনায় আকারভেদে দোকানপ্রতি ভাড়া বেড়েছে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। এতে লাভের আশা এক প্রকার ছেড়ে দিয়েছেন তারা। গতকাল শনিবারও প্লাস্টিক ফুল উৎপাদনকারী নুর ট্রেডিংয়ের স্টলের নির্মাণকাজ চলতে দেখা যায়। দেরির কারণ জানতে চাইলে এর মালিক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসাইন বলেন, ‘আগের বার যে স্টল ৪ লাখ টাকায় ভাড়া নিয়েছিলাম এবার তা হয়ে গেছে ৬ লাখ। ব্যবসা করব কী? আমরা তো বড় ব্যবসায়ী না যে প্রতিযোগিতা করে থাকব। এভাবে ভাড়া বাড়লে আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের মেলায় আসা বন্ধ হয়ে যাবে।’
মেলায় চশমার স্টল দেবেন, এমন দুই যুবক জানিয়েছেন, তারা সাত ফুট ও চৌদ্দ ফুটের পাশাপাশি দুটি দোকান ভাড়া নিয়েছেন ৮ লাখ টাকায়। গতবার এর মূল্য ছিল প্রায় অর্ধেক। তাদের একজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাদের লবিং ভালো তারা কম টাকায় পেয়েছে। যাদের সে শক্তি নেই তাদের দিতে হয়েছে বেশি।’ স্টল বরাদ্দ নেওয়ার পরও অনেকে আসছেন নাÑ জানিয়ে এ যুবক বলেন, ‘এখন তারা স্টল চালু না করলে আমাদের এখানেও লোকজন আসবে না। খালি এলাকায় মানুষ আসতে চায় না। এটা হলে আমরা মাঠে মারা যাব।’
রুপন্তী জুয়েলার্সের মালিক জাকির হোসেনের মুখেও শোনা যায় একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমরা ছোট ব্যবসায়ী। আমাদের জন্য স্টল ভাড়াটা শাঁখের করাত হয়েছে। বড় বড় কোম্পানি প্রতিযোগিতা করে দাম বাড়িয়েছে, এর মাশুল দিতে হচ্ছে আমাদের।’
মেলা আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, এবার বাণিজ্য মেলায় সবচেয়ে বড় হাতিলের শো রুম বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৭৬ লাখ টাকায়। অথচ এর সরকারি দাম ১৬ লাখ টাকা। হাতিল ছাড়া বড় কোম্পানিগুলোর প্রতিটি প্যাভিলিয়ন বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টাকায়। ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মেলার সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ। তিনি বলেন, ‘এবার বরাদ্দের আবেদন পড়েছে ১ হাজার ৫৫০টি। অথচ আমাদের মোট স্টল ও প্যাভিলিয়ন ৬০৫টি। আমরা নিজেরা দাম বাড়াইনি, বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। দরপত্রের মাধ্যমে যারা টিকেছে তারা দোকান পেয়েছে।’
গতকাল সরকারি ছুটির দিন থাকায় মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের বেশ আনাগোনা দেখা গেছে। কসমেটিক, সিরামিক পণ্য, কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় ছিল বেশি। কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা জানা যায়, মানুষজন আসছে ভালো, সে তুলনায় বিক্রি হচ্ছে কম। জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিখ্যাত কাশ্মীরি শালের দোকান নিয়ে এসেছেন ইরফান আহমেদ ও মোহাম্মদ ওয়াহিদ। দুপুরে তাদের স্টলে গিয়ে দেখা যায় নারীদের উপচে পড়া ভিড়। ইরফান আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছি। এখানকার ভাষা না বুঝলেও মানুষদের ব্যবহার মুগ্ধ করছে। বেচাবিক্রিও বেশ হচ্ছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী।