১০ তলা থেকে পড়ে 'আইনমন্ত্রীর আত্মীয়ে'র মৃত্যু

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১০ তলা থেকে পড়ে ইংলিশ মিডিয়ামে ‘এ লেভেল’ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-পরিদর্শক আল আমিন দেশ রূপান্তরকে জানান, মৃত মিশাল হোসেন ওরফে অভি (২০) আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের শ্যালকের স্ত্রীর ভাতিজা।

এটি হত্যা না অপমৃত্যু তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। মৃতের বন্ধুদের দাবি, তারা সাতজন মিলে ছাদে আড্ডা দেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রবিবার মোহাম্মদপুর থানার এসআই মুকুল জানান, মৃত ছাত্রের নাম মিশাল হোসেন। তিনি স্কলাস্টিকা স্কুলে পড়তেন। তার বাবার নাম সাইফুর রহমান। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তারা মিরপুর ডিওএইচএসের ১০ নম্বর সড়কে থাকেন।

মুকুল জানান, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে ২২/৯, ময়ূর ভিলার ১০ তলার ছাদ থেকে পড়ে মারা যান অভি। কেউ তাকে ফেলে দিয়েছে কিনা- জানতে চাইলে এসআই বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, সে কোনো কারণে পা পিছলে পড়ে গেছে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

পিবিআই উপ-পরিদর্শক আল আমিন জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় শনিবার তারা ছয় বন্ধু মিলে তাদের অপর বন্ধু সারা সারোয়ারের (১৯) মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় আড্ডা দিতে যান। সারার বাবার নাম সফিক সারোয়ার।

তিনি জানান, অভি ও সারার সঙ্গে ছিল মিরপুর ডিওএইচএসের মো. গোলাম ফারুকের ছেলে মো. আসহাবে আবরার (১৯), গুলশান নিকেতনের সাইফুর রহমানের ছেলে সহিবুর রহমান (২২), উত্তরার হুমায়ুন কবির খানের মেয়ে তাসনিম তাবাসসুম (২০), দক্ষিণ বাড্ডার আবুল হাশেমের ছেলে শাহরিয়ার হোসেন ওরফে সুমন (২২) ও মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের নূরুল ইসলামের ছেলে নূর নবী (২২)।

তিনি আরো জানান, সাত বন্ধু মিলে ছাদে উঠে নাচ ও ফুর্তি করছিল। একপর্যায়ে অভি কার্নিশের কাছে গিয়ে নাচা-নাচি করার সময় পা পিছলে পড়ে যায় বলে তার বন্ধুরা জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছে। ওই ভবনে সানশেড না থাকায় অভি ১০ তলা থেকে সরাসরি নিচে পড়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।

মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঘটনাটি হত্যা না অস্বাভাবিক মৃত্যু আমরা নিশ্চিত নই। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ময়ুর ভিলা থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ পাইনি। ঘটনাস্থলে অভির মৃত্যু হলেও স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে লাশের ময়নাতদন্তের পর প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রমাণ পেলে ওই মামলা হত্যা মামলায় রূপ নেবে।’

মৃতের বাবা সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনই কোনো কিছু বলতে পারছি না। পুলিশের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। সে কোন বন্ধুর বাসায়, কেন গিয়েছিল- বিষয়টি আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।’