সিলেটে পুরনো কারাগারের জায়গায় উদ্যান হচ্ছে না

পরিকল্পনা ছিল নতুন কারাগার চালুর পর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় নির্মিত হবে উদ্যান। কিন্তু সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নগরীর ‘ফুসফুস’ নয়, দুই নম্বর কারাগার হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে পুরনো কারা ফটকে ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২’ লেখা সাইনবোর্ডও টানানো হয়েছে।

নগরীর ধোপাদীঘির পাড়ে অবস্থিত দুই শতাধিক বছরের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা নতুন ঠিকানায় চলে গেছেন। তারা শহরের অদূরে বাদাঘাটে নির্মিত আধুনিক কারাগারে যাওয়ার পরও বন্দিমুক্ত হচ্ছে না পুরনো ভবনটি। কারা কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি তারা ছাড়ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি সিলেটের দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। নতুন কারাগারের নির্মাণকাজ শুরুর সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, ‘সিলেট নগরীতে উন্মুক্ত উদ্যানের অভাব রয়েছে। মানুষ একটু নির্মল শ্বাস-প্রশ্বাসের জায়গা খুঁজে পায় না। তাই নতুন কারাগার চালুর পর পুরনো কারাগারের জমিতে উদ্যান গড়ে তুলতে চাই। এই উদ্যানটি হবে সিলেট নগরীর “ফুসফুস”। এখান থেকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাবে নগরবাসী।’ এরপর থেকেই নগরবাসী খোলা উদ্যানের অপেক্ষায় ছিল।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীতে একটি উন্মুক্ত উদ্যান থাকা খুবই জরুরি। তবে পুরনো কারাগারের স্থলে উদ্যান করার যে প্রস্তাব ছিল, তা আপাতত বাতিল হয়েছে।’ সিলেটের জেল সুপার আবদুল জলিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুরনো কারাগারের জমিতে উন্মুক্ত উদ্যান গড়ে তুলতে সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে কারাগার-২ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ এরই মধ্যে পুরনো ভবনটিতে সংস্কার ও জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সাবেক অর্থমন্ত্রীর চিন্তা ছিল জনকল্যাণকর। আমরা চাই সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হোক।’ সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘উন্মুক্ত উদ্যান করার প্রস্তাবটি ছিল সিলেটবাসীর জন্য আনন্দের ও নগরবাসীর জনস্বাস্থ্যের জন্য কল্যাণকর।’