ভিসিসহ যবিপ্রবি’র দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মামলা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানির দুটি মামলা করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল।

সোমবার বেলা ১২টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা এ দুইটি মামলায় ৫শ’ কোটি ও দশ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। আদালত মামলা দুটির বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।

একটি মামলায় বিবাদী করা হয়েছে উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. ইকবাল কবির জাহিদকে। অপর মামলায় বিবাদী করা হয়েছে ড. ইকবাল কবির জাহিদ ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসানকে।

প্রথম মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত দুইজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮ ও ২০১৯ সালের ক্যালেন্ডার মুদ্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। বিলি করা ওই ক্যালেন্ডারে ইচ্ছাকৃতভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ফুটো করে স্পাইরাল বাইন্ডিং করেছে। এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি জলছাপ দিয়ে বিকৃত করা হয়েছে।

এছাড়া ২০১৯ সালের ক্যালেন্ডারে জাতির জনকের শাহাদৎবার্ষিকীর তারিখ দিয়ে ৩শ’তম বার্ষিকী ছাপা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে বাদী মনে করছেন এ ঘটনায় জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করে ৫শ’ কোটি টাকার মানহানি করা হয়েছে।

অপর মামলায় আনোয়ার হোসেন বিপুল অভিযোগ করেছেন, গত ৮ জানুয়ারি বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. ইকবাল কবির জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার একটি প্রতিকৃতি পুড়িয়ে ফেলে। এ বিষয়ে তিনি (বিপুল) তার কাছে ফোনে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নিয়ে বিভিন্ন কটূক্তিমূলক কথা বলেন। তার নামে থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগের জিডি করেন এবং পত্র-পত্রিকায় আপত্তিকর কথা বলেন। বিবাদীরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যাভাবে দশ কোটি টাকার মানহানি ঘটিয়েছেন।

আনোয়ার হোসেন বিপুলের করা মামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন এ বছরের কোন ক্যালেন্ডার বিলি করা হয়নি। ফলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবমাননার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। নৌকা প্রতীক পোড়ানোর কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আনোয়ার হোসেন বিপুল নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থে এ কাজ করছেন।

মামলার পর দুপুর ১টায় আনোয়ার হোসেন বিপুল যশোর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।