নরেন্দ্র মোদিকে গুপ্তহত্যা করতে চান সমীর খান- এমন অভিযোগ তুলে ২০০২ তালে তাকে সাজানো বন্দুকযুদ্ধে মেরে ফেলে গুজরাট পুলিশ। ১৬ বছরের বেশি সময় পর ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক এইচ.এস বেদির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে এসেছে।
পুলিশের দাবি, সমীর খান পাকিস্তান ভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সদস্য। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খুন করার জন্য তাকে পাঠানো হয়।
পুলিশের এমন দাবিতে খুশি ছিলেন না বিচারক বেদি। তিনি পর্যবেক্ষণে মোদির সংশ্লিষ্টতা না পেলেও সব দোষ পুলিশকে দিচ্ছেন।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২২৯ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন জমা দেন বেদি। তার আমলে গুজরাটে ১৭টি সাজানো বন্দুকযুদ্ধ হয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
গত এক বছর ধরে বেদির প্রতিবেদনটি কোর্টের বেসমেন্ট রুমে ছিল। গুজরাট সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে সেটি এখন প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গোগোই।
১৭টি বন্ধুকযুদ্ধের সবক’টি হয় ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে। ওই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
১৭টির মধ্যে তিনটি ‘কেস’ বেদি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। ভুক্তভোগী দুই পরিবারকে ১০ লাখ এবং ১৪ লাখ রুপি জরিমানার নির্দেশও দেন তিনি।
সমীর খানের বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যার অভিযোগও আনে গুজরাট প্রশাসন। কিন্তু বেদি সেসব আমলে না নিয়ে সমীরের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন।