ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) নিয়ে পার্লামেন্ট ভোটাভুটিতে অংশ নিতে সন্তান জন্মদানের সময় পেছালেন দেশটির আইনপ্রণেতা টিউলিপ সিদ্দিক।
মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। আর এদিনই অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) মাধ্যমে দ্বিতীয় সন্তানের মা হওয়ার কথা ছিল ৩৬ বছর বয়সী টিউলিপের।
হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রাসেলস এবং লন্ডনের মধ্যে সই হওয়া চুক্তির ওপর ভোট দিতে টিউলিপের অস্ত্রোপচার পিছিয়ে বৃহস্পতিবার নিতে সম্মত হন চিকিৎসকরা।
পার্লামেন্টের ভোট লবিতে হুইল চেয়ারে করে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে বিরোধী দল লেবার পার্টির এই আইনপ্রণেতার।
লন্ডন ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকাকে টিউলিপ বলেন, ‘আমার সন্তান একদিন পরে পৃথিবীতে আসলেও যদি বিশ্ব ব্রিটেন ও ইউরোপের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক দেখার সুযোগ পায়, তাহলে সেটাই হবে যথার্থ লড়াই।’
অবশ্য প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র কনজারভেটিভ পার্টির একটি সূত্র জানিয়েছে, টিউলিপকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল- তিনি ভোট না দিলে তাদেরও একজন ভোট দেবে না যাতে ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়ে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই পদ্ধতি ‘পেয়ার বা জুড়ি’ হিসেবে পরিচিত।
তবে টিউলিপ এই অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে বিশ্বাস করেন না জানিয়ে বলেন, গত বছর কনজারভেটিভ পার্টি এক প্রসূতির ক্ষেত্রে এই ‘পেয়ার বা জুড়ি’ পদ্ধতি মানেনি।
এদিকে লেবার পার্টির আইনপ্রণেতারা হাউজ অব কমন্সের স্পিকারের কাছে জানতে চেয়েছেন, টিউলিপ প্রক্সি ভোট দিতে পারবেন কিনা। তবে স্পিকার জানিয়ে দিয়েছেন, যেহেতু এ ধরনের ভোট দেওয়ার নজির নাই, তাই এর অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা তার নাই।
টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে। বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান তার নানা।