জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে চুয়াডাঙ্গায়। যেটি হবে বাংলাদেশের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য।
জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস এ খবরটি নিশ্চিত করে জানান, ভাস্কর্যটি নির্মাণ করবেন বাংলাদেশে ভাস্কর্য নির্মাণের প্রধান পরিকল্পনাকারী মৃণাল হক।
চুয়াডাঙ্গায় বঙ্গবন্ধুর উচ্চতম ভাস্কর্য নির্মাণের খবরে উচ্ছ্বসিত চুয়াডাঙ্গাবাসী। মঙ্গলবার সকালে খবরটি জানাজানি হলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষ।
চুয়াডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নুরুল হক মালিক জানান, যুদ্ধকালীন সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার ইতিহাস গৌরব মাখা। সে সময় চুয়াডাঙ্গা থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নেতৃত্ব দেওয়া হতো। যুদ্ধকালীন সময়ে চুয়াডাঙ্গা অস্থায়ী রাজধানী হারাবে তার কার্যক্রমও চালিয়েছে। শপথ গ্রহণের কথাও ছিল চুয়াডাঙ্গাতে। কিন্তু কৌশলগত কারণে স্বাধীন বাংলার প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করেন মেহেরপুরের মুজিবনগরে।
এ মুক্তিযোদ্ধার মতে, ৭১ সালের এত স্মৃতিময় জেলা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা নিজেকে মেলে ধরলেও দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছরেও বাংলার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ভাস্কর্য চুয়াডাঙ্গায় নির্মাণ করা হয়নি। তবে দেরিতে হলেও ভাস্কর্য নির্মাণের খবরে খুশি তারা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এবার চুয়াডাঙ্গায় নির্মিত হবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। যেটি নির্মিত হবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের টেনিস গ্রাউন্ডের পাশে। এর উচ্চতা হবে একশ ফুট।
জেলা প্রশাসক জানান, চুয়াডাঙ্গায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি নির্মিত হলে এটিই হবে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য।
কারণ হয়েছে তিনি জানান, চট্টগ্রামে রাজউকের তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধুর যে ভাস্কর্যটি রয়েছে সেটির উচ্চতা ৬৬ ফুট, বিমানবন্দরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক যে ভাস্কর্যটি রয়েছে তার উচ্চতা ৫৩.৫০ ফুট।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় সংসদের হুইপ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন জানান, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজ আমি অনেক আনন্দিত। কারণ চুয়াডাঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে।
ভাস্কর্য নির্মাতা মৃণাল হক জানান, এটি নির্মাণ করতে সময় লাগবে ৫ মাস। তবে ভাস্কর্যটি নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হবে এটি তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেননি তিনি।