রাশিয়ার যোগসাজশে নির্বাচনে জিতেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমনটা দাবি করেছে বেলারুশের এক নারী মডেল। এ ব্যাপারে তার কাছে প্রমাণ আছে বলেও তিনি জানান।
এনডিটিভি জানায়, থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ‘সেক্স ট্রেনিং কোর্স’ চালানোর অভিযোগে এক রিসোর্ট থেকে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে অ্যানেসথেসিয়া ভাশুকেভিচ নামে এ মডেলকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয় এ মডেলকে।
রাশিয়ার অ্যালুমিনিয়াম টাইকুন ওলেগ দেরিপাস্কার এক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন রেবকা। এ ঘটনার পরেই তিনি থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেন। বেলারুশের বাসিন্দা হলেও রাশিয়ার পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন তিনি।
ধারণা করা হয়, অভিজাত পতিতাবৃত্তির সঙ্গেও জড়িত এ তরুণী। পুরুষদেরকে একান্তে ‘শরীর শিক্ষা’ দিতেন তিনি।
রুশ ধনকুবের দেরিপাস্কা ছিলেন ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক ডিরেক্টর পল ম্যানাফোর্টের এক সময়কার ব্যবসায়িক সহযোগী।
থাইল্যান্ডে রেবকা দাবি করেন, ২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ে ক্রেমলিনের যোগসাজশ ছিল। এ নিয়ে তার কাছে প্রমাণ আছে এবং সেসব তিনি প্রকাশ করবেন বলে জানান।
তবে আদালত প্রাঙ্গণে তাকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে দেয়নি পুলিশ। একইসঙ্গে তার এ দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেছেন অনেকে। জনগণকে ভুল বোঝাতে তিনি এসব বলেছেন বলে অনেকের মত।
অবৈধ যৌন কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে রেবকার সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় তার সাত সহযোগীকেও। পুলিশের দাবি, থাইল্যান্ডের আইন লঙ্ঘন করে রুশ সেক্স গুরু অ্যালেক্স কিরিলোভের তত্ত্বাবধায়নে এ কোর্সের আয়োজন করা হয়।
কিরিলোভও এদিন উপস্থিত ছিলেন আদালতে। তার দাবি, পরিকল্পিত করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা কোনো ধরণের বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
কীভাবে নারী-পুরুষের মধ্যে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত এ নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করেছিলেন। কোনো ধরনের যৌন কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন না বলে তিনি দাবি করেন।
কিরিলোভ বলেন, ‘আমি মনে করি কারও নির্দেশে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’
রেবকা ও কিরিলোভ জানান, রাশিয়ায় ফিরে যেতে তারা এখন আতঙ্কিতবোধ করছেন। এমনকী এ গ্রেপ্তারের ঘটনার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রকেও দায়ী করেন।
তবে ওয়াশিংটন ও মস্কো তাদের এ দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রেবকার এ দাবিকে ‘উদ্ভট’ বলে মন্তব্য করেছে।