বঙ্গবন্ধুর শতফুট ভাস্কর্য হচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চুয়াডাঙ্গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০০ ফুট উঁচু ভাস্কর্যটি নির্মিত হলে তা হবে দেশে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে উচ্চতম। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গোপাল চন্দ্র গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে জানান, ভাস্কর্যটি নির্মাণ করবেন মৃণাল হক। এ বিষয়ে ভাস্কর মৃণাল হক বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার ভাস্কর্যটি হবে বাংলাদেশের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে উচ্চতম ভাস্কর্য। এটি নির্মাণ করতে সময় লাগবে পাঁচ মাস।’ এর নির্মাণ ব্যয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

জেলা প্রশাসক জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের টেনিস গ্রাউন্ডের পাশে ভাস্কর্যটি নির্মিত হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে রাজউকের তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধুর যে ভাস্কর্যটি রয়েছে সেটির উচ্চতা ৬৬ ফুট, রাজধানীর বিমানবন্দরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ভাস্কর্যটির উচ্চতা ৫৩ দশমিক ৫০ ফুট। সে হিসাবে নির্মাণের পর এটিই হবে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য। এদিন সকালে ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, দর্শনা পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান, আলমডাঙ্গার মেয়র হাসান কাদির গণু, ভাস্কর্য নির্মাতা মৃণাল হকসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তারা প্রাথমিকভাবে নির্মাণের জন্য মনোনীত জায়গা ঘুরে দেখেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হুইপ সোলায়মান হক বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজ আমি অনেক আনন্দিত। চুয়াডাঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে। এমন মহৎ কাজে আমার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।’

চুয়াডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নুরুল হক মালিক বলেন, ‘যুদ্ধকালীন সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার ইতিহাস গৌরবময়। সে সময় চুয়াডাঙ্গা থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নেতৃত্ব দেওয়া হতো। যুদ্ধকালীন চুয়াডাঙ্গা অস্থায়ী রাজধানী হিসাবে তার কার্যক্রমও চালিয়েছে। স্বাধীন বাংলার প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণের কথাও ছিল চুয়াডাঙ্গায়। কিন্তু কৌশলগত কারণে তা মেহেরপুরের মুজিবনগরে করা হয়।’