ডাকাতির কাপড়সহ ছাত্রলীগের ৩ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

লুটের কাপড়সহ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া ১৭ লাখ টাকার কাপড় উদ্ধার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার গোয়লদী এলাকার নাছির খানের ছেলে ও পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হাসান খান সাজু (২৫), একই এলাকার মো. সেলিম মিয়ার ছেলে মো. মামুন হোসেন (২৪) ও টিপরদী এলাকার মনির হোসেনের ছেলে রিয়াদ হোসেন রনি (২৪)। মামুন হোসেন ও রিয়াদ হোসেন রনি দুজনই ছাত্রলীগের কর্মী। পুলিশের দাবি, তারা পোশাক কারখানার ফেব্রিকস ও গাড়ি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত।

বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতভর সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হক শিকদার জানান, গত ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ‘চৈতি গার্মেন্টস’ নামে পোশাক কারখানার ১৬৬ বস্তা ফেব্রিকস (থান কাপড়) সহ একটি কাভার্ড ভ্যান লুট করেছিল ডাকাতেরা। যার মূল্য ৪৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। পরে ওই দিন রাতে কারখানার ম্যানেজার বদুরুজ্জামান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

এসআই আব্দুল হক শিকদার জানান, পরদিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়ালদী শাহি মসজিদের সামনে থেকে লুট হওয়া কাভার্ড ভ্যান ও ৬৬ বস্তা কাপড় উদ্ধার করা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এর ধারাবাহিকতায় ১৪ জানুয়ারি আবারও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আদমপুর এলাকার অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে আরও ১০০ বস্তা কাপড় উদ্ধার করা হয়। এ সময় গ্যারেজের মালিক জসিম উদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতভর উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসিম উদ্দিন জানায় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই তিন ডাকাত তার গ্যারেজে লুট করা কাপড়ের বস্তা মজুত রাখে। তার কথার সত্যতা পাওয়ায় জসিম উদ্দিনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম বলেন, তিনজনকে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিকেলে তাদেরকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাদের জেলা কারাগারে প্রেরণ করেন এবং বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেন।