স্মার্ট স্কুলে আগ্রহ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের

প্রাথমিকে ঝরেপড়া রোধ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে সরকারি অর্থায়নে চুয়াডাঙ্গায় গত নভেম্বরে চালু হয়েছে দেশের প্রথম স্মার্ট স্কুল। জেলার সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামে আলোচিত এ স্কুলটি দেখতে এখন আগ্রহ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। এতে ছেলেমেয়েদের মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সচেতন হয়েছেন অভিভাবকরাও।

যেহেতু দেশের প্রথম স্মার্ট স্কুল। তাই এর ভিন্নতাও আছে বেশ। গোটা স্কুলটি নানা রঙে সাজিয়ে শোভাবর্ধন করা হয়েছে শিশুদের আকর্ষণ ও দৃষ্টিনন্দন করতে। ডিজিটাল হাজিরাসহ শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পাঠদান করছেন।

সুমাইয়া ও রবীন নামে দুই শিক্ষার্থী জানায়, ‘দেশের প্রথম স্মার্ট স্কুলের শিক্ষার্থী আমরা। এটা আমাদের জন্য আনন্দের। একইসঙ্গে এ স্কুলে লেখাপড়া করতে পেরে আমরা খুব খুশি।’

আফসার উদ্দীন নামে এক অভিভাবক জানান, কিছুদিন আগেও গ্রামের প্রাইমারি স্কুলটি ছিল ভাঙাচোরা। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ত শ্রেণিকক্ষে। শিক্ষকরাও পাঠদানে তেমন মনোযোগী ছিলেন না। আর এ কারণে ছেলেমেয়েরা স্কুলে না যেতে নানা ফন্দি আঁটত। স্কুলটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল জব্বার দেশ রূপান্তরকে জানান, বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট স্কুল তাদের গ্রামে হওয়াতে খুশি গ্রামের মানুষ। এতে গ্রামের ছেলেমেয়েদের মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকরাও সচেতন হয়েছেন।

স্কুল নির্মাণের পরিকল্পনাকারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াশিমুল বারী জানান, এরমধ্যে সদর উপজেলার চারটি রঙিন স্কুল আমার পরিকল্পনাতে তৈরি হয়েছে। সেই পরিকল্পনা থেকেই বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট স্কুল তৈরির পরিকল্পনা মাথায় আসে। স্কুলটিতে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল হাজিরার পাশাপাশি শিক্ষকদেরও এই হাজিরার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ক্লাসে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে সার্বক্ষণিক নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পাশাপাশি গোটা স্কুলটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।