বিদায়ী বছরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রায় সোয়া লাখ মামলায় দেড় লাখ আসামিকে আইনের আওতায় এনেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। উদ্ধার হয়েছে প্রায় চার কোটি ইয়াবা, ৫০ হাজার কেজি গাঁজা, ৪৫০ কেজি হেরোইন, সাড়ে তিন লাখ বোতল ফেনসিডিলসহ বিপুলসংখ্যক অন্যান্য মাদক। পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ (বিজিবি) অন্যান্য সংস্থার মাদকদ্রব্য উদ্ধারের এই পরিসংখ্যান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সংশ্লিষ্টরা জানায়, বিশেষ করে গত বছর ১৫ মে থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে আসামি গ্রেপ্তার ও মামলার সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়; যা পুলিশের জন্য ইতিবাচক। তবে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মে অভিযান শুরুর পর থেকে মাদক চোরাচালান ও কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আড়াই শতাধিক ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৯২ জন; যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়েছে উল্লেখ করে বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে আসক জানিয়েছে, ২০১৮ সালে ৪৬৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে; যা ২০১৭ সালের তুলনায় ২৮৭ শতাংশ বেশি।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সারা দেশে মাদক আইনে ১ লাখ ১২ হাজার ৫৫২টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আর আগের বছর ২০১৭ সালে তা ছিল ৯৮ হাজার ৯৮৪টি। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ২০৮টি, ২০১৫ সালে ৪৬ হাজার ৫১২টি, ২০১৪ সালে ৪২ হাজার ১৯০টি এবং ২০১৩ ও ২০১২ সালে ২৯ হাজার ৩৪৪টি করে।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর মাদক মামলায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সর্বাধিক ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৯৩ জন, র্যাব ১০ হাজার ৯৮ জন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৭ হাজার ১৪৬ জন, বিজিবি ও অন্যান্য সংস্থা ১ হাজার ৫৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।
এতে আরও বলা হয়েছে, সবকটি সংস্থা মিলে গত বছর যেসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে তার মধ্যে রয়েছে ৪১৭ কেজি ও ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৭১ পুরিয়া হেরোইন, ৭ কেজি ২৮ গ্রাম আফিম, ৫০ হাজার কেজি গাঁজা, ২ হাজার ৫০৭ পিস প্যাথেডিন (অ্যাম্পল), বিয়ার ৬০ হাজার ৮৭৫ ক্যান ও ২ হাজার ৪৪০ বোতল, বিদেশি মদ ২ লাখ ৮০ হাজার ৯২ বোতল ও ১০ হাজার ৪২১ লিটার, দেশি মদ ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৯৬ লিটার ও ১ হাজার ৬২৩ বোতল, ইয়াবা ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮২২ পিস, খাট ২ হাজার ৯০১ কেজি, নেশাজাতীয় ইনজেকশন ১ লাখ ৪ হাজার ১৬৮ পিস, তাড়ি ৬৭১ লিটার, স্প্রিট ২ হাজার ৪২৯ লিটার এবং নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৫০ পিস।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সর্বাধিক ২ কোটি ৯ হাজার ৬৪১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর র্যাব উদ্ধার করেছে ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৮১টি।
মাদক মামলা বেড়ে যাওয়াকে ইতিবাচক মনে করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলবেই। দেশ ও সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে যা যা করা দরকার তাই করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পিছপা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ মাদক উদ্ধারের সময় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতরা সবাই তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি বলেও দাবি করেন মন্ত্রী।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড প্ল্যানিং) এস এম রুহুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাদকের মামলা বেড়ে যাওয়া ও বেশি আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখি। পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অধিক হারে তৎপর হলে মাদকদ্রব্য বেশি উদ্ধার হবে এবং এসব মামলায় বেশি আসামি গ্রেপ্তার হবে এটাই স্বাভাবিক।’ মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।