মেহেরপুরে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কালাইটিসসহ ঠান্ডাজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। হাসপাতালে বেড বা কেবিন না পেয়ে মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে শত শত শিশুকে।
প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে এখানে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন যাওয়া হয় মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে। মূলত হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও সরকারি ঘোষণায় ২৫০ শয্যার।
দেখা গেল, নিউমোনিয়া ঠান্ডাজনিত রোগ অথচ জায়গার অভাবে শিশুদের এখানে শীতে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
শিশু ওয়ার্ডে ঢুকতেই চোখে পড়ল আক্রান্ত শিশুদের নাকেমুখে পাইপ লাগানো, হাতে স্যালাইন অবস্থায় কান্না, আহাজারি ও নীরব কষ্ট। ওয়ার্ডের ভেতরে ও বাইরের মেঝেতে সর্বত্র শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে আক্রান্ত শিশুরা। দুজন চিকিৎসক ও কিছু শিক্ষার্থী নার্স শত শত এই শিশুদের চিকিৎসা এবং অভিভাবকদের অভিযোগ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ওবায়দুল হক পলাশ জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কালাইটিস আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে কাতর হয়ে ভর্তি হচ্ছে এই সমস্ত শিশু।
প্রতিদিনই ৩০ থেকে ৪০টি নতুন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ঢুকছে। সব মিলিয়ে আড়াই’শ থেকে তিন’শ রোগী ভর্তি থাকছে। যার বেশির ভাগই নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কালাইটিস আক্রান্ত।
চিকিৎসক মৃণাল কান্তি জানান, হাসপাতালে ৪২ চিকিৎসকের স্থলে আছে সাতজন। নার্সসহ জনবল খুবই অপ্রতুল। শিক্ষার্থী নার্স দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। শিশু ওয়ার্ডে ৩০ বেড আছে। অথচ শীত মৌসুমে প্রতিদিন ৩০০ শিশু রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়। এতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের।
সদর উপজেলার শোলমারী গ্রামের দীপ্তি খাতুনের অভিযোগ, তিনি তার ১ বছরের নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু নিয়ে তিন দিন হলো হাসপাতালে। জায়গা না পেয়ে অসংখ্য শিশু মেঝেতে শুয়ে কষ্টের মধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছে। এই হাসপাতালটি সরকারি হলেও হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। সরকারি সুযোগ-সুবিধাও তেমন পাওয়া যায় না। একই অভিযোগ জানালেন অন্যান্য শিশুর অভিভাবকেরা।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এহসান কবির জানান, ৫ বছর আগে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও ১০০ শয্যার চাহিদা সুযোগ-সুবিধা নিয়েই চলছে হাসপাতালটি। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু বাড়েনি ওষুধ ও সুযোগ-সুবিধার বরাদ্দ।
তিনি বলেন, রোগী তুলনায় ওষুধ অপ্রতুল। নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, বেড, নার্স ও জনবল। সে কারণে সব রোগীর ভাগ্যে সরকারি ওষুধ ও সুযোগ-সুবিধা জোটে না। এরপরও সর্দি, কাশি, অ্যাজমা, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সমস্ত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোনো শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।