শাটডাউনে পড়ে বিয়ের পোশাকও বিক্রি করে দিচ্ছেন মার্কিনিরা

শাটডাউনে পড়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বেতন বন্ধ হয়ে গেছে আট লাখেরও বেশি সরকারি কর্মচারীর। এতে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে তাদের পরিবার।

অর্থের জোগান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আঁকড়ে রাখা নানা মূল্যবান স্মৃতিচিহ্ন, ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে বিয়ের পোশাক পর্যন্ত বিক্রি করে দিচ্ছেন তারা।

ক্যাভালারো নামে মিশিগানের ৩৬ বছর বয়সী এক মা তার কিশোর ছেলের প্রথম জন্মদিবস অনুষ্ঠানের জ্যাকেট ও চশমা মাত্র পাঁচ ডলারে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছেন ফেসবুকে। টম ক্রুজের ‘টপ গান’ সিনেমার মতো বৈমানিক পোশাক বাচ্চাকে উপহার দিয়েছিলেন তিনি।

ক্যাভালারো বলেন, ‘এটির সঙ্গে অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাকে তো আমার বাচ্চাদের মুখে খাবার তুলে দিতে হবে।’

তার স্বামী কোস্টগার্ডে চাকরি করেন। শাটডাউনের কারণে তার বেতন বন্ধ হয়ে আছে। গত সপ্তাহে কোস্টগার্ড থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, অর্থের জন্য গ্যারেজের বাড়তি জিনিস বিক্রি করে দিতে।

ওই নির্দেশনার কথা শুনে ক্যাভালারো হেসেছিলেন। কিন্তু এখন ঠিকই তাকে গ্যারেজের জিনিস বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। তার তিন সন্তানের পোশাক থেকে শুরু করে খেলনা পর্যন্ত বিক্রি করছেন পাঁচ থেকে দশ ডলারে।

ক্ল্যাভল্যান্ডের আরেক মার্কিন তরুণী বিক্রি করে দিয়েছেন বিয়ের স্মৃতিচিহ্ন। বিয়ে ভেঙে গেলেও এতদিন দামি ক্রিস্টাল পানীয় পাত্র স্মৃতি হিসেবে ধরে রেখেছিলেন। এখন সেটিও বিক্রি করে দিতে হয়েছে তাকে।

তার বর্তমান বাগদত্তা নাসার একজন প্রকৌশলী। শাটডাউনের কারণে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে না তাকে, সেই সঙ্গে বেতনও বন্ধ।

তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শাটডাউন চলতে থাকলে ঘরে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকতে হবে। ঘরের আসবাবপত্র, সাজসজ্জা সামগ্রী, টবের গাছ, পোশাক, অলংকার সবকিছু বিক্রি করে দিতে হবে।

লউরি সেলমনস নামে ৫৩ বছর বয়সী জর্জিয়ার আরেক নারী মেয়ের বিয়ের জন্য পোশাক কিনেছিলেন। এখন ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সেগুলো প্রতিটি ১০০ ডলার করে বিক্রি করছেন।

লউরির স্বামী আবাসন ও নগর উন্নয়ন দপ্তরে চাকরি করতেন। শাটডাউনের কারণে তার বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরের খরচ জোগাতে তাকে এখন বিক্রি করে দিতে হচ্ছে বিশাল কাঠের ঘড়িটিও।

একইভাবে দামি দুষ্প্রাপ্য দ্রব্যসামগ্রী, পুরোনো মডেলের গাড়ি, ব্যক্তিগত শখের জিনিসপত্র, নিত্যদিনের ব্যবহারের জিনিসও বিক্রি করে দিচ্ছেন মার্কিন নাগরিকরা।