কয়লা আমদানি বন্ধে বিপাকে সিলেটের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা

সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর এবং সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় কয়লা আমদানিকারক ও আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক বিপাকে পড়েছেন। আমদানিকারকদের অন্তত ১০০ কোটি টাকার ঋণপত্র (এলসি) আটকা পড়েছে। দেশে ইট পোড়ানোর ভরা মৌসুমে কয়লার চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক ইটভাটা মালিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। কয়লা রপ্তানিতে ভারতীয় আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত বুধবার থেকে বাংলাদেশের এই চারটি সীমান্ত পথ দিয়ে কয়লা আসছে না।

সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি চন্দন সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভারতের মেঘালয়ের বিভিন্ন খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা সিলেট বিভাগের চারটি স্টেশন দিয়ে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানির অনুমতি ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে ভারতের একটি আদালত মেঘালয়ে উত্তোলিত কয়লা বাংলাদেশে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ কারণে বুধবার থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রায় ৮০০ আমদানিকারকের অন্তত ১০০ কোটি টাকার এলসি আটকা পড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কয়লা আমদানি করতে না পারলেও এলসির সুদ ব্যাংককে পরিশোধ করে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে অর্ডার নিয়েও এখন কয়লা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলে ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি কয়লা পরিবহন ও লোড-আনলোডের সঙ্গে জড়িত পাঁচ হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।’

কয়লা আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, তামাবিল, বড়ছড়া, বাগলী ও চারাগাঁও দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টন কয়লা বাংলাদেশে আমদানি হতো। এই কয়লা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন খনি থেকে উত্তোলিত হয়। কিন্তু মেঘালয়ের একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের মামলার প্রেক্ষিতে ভারতীয় আদালত কয়লা উত্তোলন ও বাংলাদেশে রপ্তানিতে এর আগেও একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। গত বছরের ১ জুন থেকে মেঘালয়ের কয়লা বাংলাদেশে রপ্তানির বন্ধ ছিল। পরে গত ৪ ডিসেম্বর আদালত মেঘালয়ে উত্তোলিত কয়লা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা এলসি করে ২২ ডিসেম্বর থেকে কয়লা আমদানি শুরু করেন।