প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল: শেখ হাসিনা

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল: শেখ হাসিনা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ত ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ায় সব শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশের মানুষের উন্নতির জন্য নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার পংক্তি উচ্চারণ করে বলেছেন, 'যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,/ এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি— নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার'।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার বিজয় সমাবেশের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। এতে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা।

সভাপতির ভাষণে তিনি বলেছেন, এ বিজয় মহান মুক্তিযুদ্ধের। স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, যখন দায়িত্ব পেয়েছি তখন সবার জন্য আমাদের সরকার কাজ করবে। সবার রাজনৈতিক অধিকার অক্ষুণ্ন রাখবে। জীবনমানের উন্নয়ন হবে।

তরুণ ভোটার যারা এবার প্রথম ভোট দিয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাকে অর্থবহ করেছে। এ জন্য তিনি তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য মানুষ ভোটে আমাদের বিজয়ী করেছে।

তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের ১৯৭৫ সালে নৃশংসভাবে হত্যার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যেমন দেশের জন্য জীবন দিয়েছে তেমনি প্রয়োজনে আমি বুকের রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে হলেও দেশের জন্য কাজ করে যাব।

তিনটার পরে সমাবেশ স্থলে আসেন শেখ হাসিনা। সাড়ে চারটার কিছু পরে তিনি ভাষণ শুরু করেন। সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মতিয়া চৌধুরী, মো. নাসিম, জাহাঙ্গির কবির নানক, আবদুর রহমান, বাহাউদ্দিন নাসিম প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন দলটির প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

নেতারা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করছে তারা স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক।

নেতারা তাদের বক্তৃতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন,  হাওয়া ভবনের নায়ক, গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানাই।

সমাবেশ বেলা আড়াইটায় শুরু হলেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয় দুপুর ১২টায়। এর আগে সকাল ১১টায় সমাবেশস্থলে প্রবেশের ফটকগুলো খুলে দেওয়া হয়।

সকাল থেকেই মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে সোহরাওয়ার্দী ও এর আশপাশের এলাকা।

বিজয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, ঢাকা ও তার আশপাশের জেলার আওয়ামী লীগ ও দলীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করেছে দলটি। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সঙ্গেও প্রস্তুতি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্বাধীনতার পর এ বিজয় সমাবেশকে স্মরণীয় করে রাখতে বিপুল জনসমাগমের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে কয়েক লাখ লোকের সমাবেশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৮৮ আসনে বিজয়ী হয়েছে। ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে শপথ নেয়নি মাত্র ৮ আসন পাওয়া বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।