রাইলি রুশো, এবি ডি ভিলিয়ার্সের পর শেষ দিকে ঝড় তুললেন ফরহাদ রেজা। তাতে চলতি বিপিএলে টানা হারের পর রেকর্ড রান তাড়া করে জয়ের দেখা পেয়েছে মাশরাফী মোর্ত্তজার রংপুর রাইডার্স।
শনিবার বিপিএলে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সকে ৪ উইকেটে হারায় রংপুর। প্রতিপক্ষের বেধে দেওয়া ১৯৫ রানের টার্গেটে ৩ বল বাকি থাকতেই পৌঁছে যায় গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় রংপুরের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। দলীয় রানের খাতা খুলার আগেই পাকিস্তানী পেসার মোহাম্মদ ইরফানের বলে প্রথম ওভারেই উইকেট ছাড়া হন ক্যারিবিয়ান ওপেনার গ্রিস গেইল।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে তোলেন অ্যালেক্স হলস ও রাইলি রুশো। ৬৩ রানের এই জুটিতে ফাটল ধরান অলক কাপালি। লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ২৪ বলে দুই চার ও দুই ছক্কায় ৩৩ রান করা ইংলিশ ওপেনার হলস।
অবিচল থাকেন দক্ষিণ আফ্রিকার রুশো। তৃতীয় উইকেটে স্বদেশী ডি ভিলিয়ার্সকে নিয়ে ৩৮ বলে গড়েন ৬৭ রানের জুটি! এই জুটিতেই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলার রসদ পায় রংপুর।
দলীয় ১৩০ রানে তাসকিন আহমেদের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন রুশো। ততক্ষণে ৩৫ বলে ৬১ রানের কার্যকর একটি ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। তার ইনিংসটিতে রয়েছে নয়টি চার ও দুটি ছক্কা।
দলীয় স্কোরে ৭ রান জমা পড়তেই তাসকিনের শিকার হন ডি ভিলিয়ার্স। উইকেট ছাড়ার আগে বিপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচটিতে ২১ বলে দুই চার ও দুই ছক্কায় ৩৪ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই তারকা ব্যাটসম্যান।
বাকি সময়টায় পথহারা হয়নি রংপুর। রানের চাকা সচল রাখেন মোহাম্মদ মিঠুন (১৪) ও নাহিদুল ইসলাম (১৯)। শেষ দিকে ঝড় তুলেন ফরহাদ রেজা। তার ৬ বলে ১৮ রানের তিন বল হাতে রেখেই জয়োল্লাসে মাতে মাশরাফীরা।
সিলেটর বোলারদের মধ্যে চার ওভারে ৪২ রানে ৪ উইকেট নেন তাসকিন। একটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান ও অলক।
এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করে সাব্বির রহমান ও নিকোলাস পুরানের নৈপুণ্যে ৪ উইকেটে ১৯৪ রানের স্কোর গড়ে সিলেট।
লিটন দাস ও সাব্বিরের উদ্বোধনী জুটি ১৩ রানের বেশি দলকে দিতে পারেনি। মাশরাফীর বলে ফরহাদ রেজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন।
এরপর আফিফ হোসেন ও ডেভিড ওয়ার্নারকে নিয়ে এগিয়েছেন সাব্বির। আফিফের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৩৯ রানে জুটি। ওয়ার্নারকে নিয়ে যোগ করেন ৫১ রান।
১৯ রান করে উইকেট ছাড়া হন আফিফ। মাশরাফীর শিকারে পরিণত হন ২১ বলে ১৯ রান করা ওয়ার্নার। তার আগেই সাব্বির পেয়ে যান বিপিএলের এবারের আসরে নিজের প্রথম ফিফটি।
অর্ধশতক পূরণের পর চতুর্থ উইকেটে নিকোলাস পুরানকে ঝড় তুলেন সাব্বির। এই জুটিতে ৩৯ বলে আসে ৮২ রান।
১৯তম ওভারের প্রথম বলে লং অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাব্বির। তার আগে খেলেন চলতি বিপিএলে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৮৫ রানের ইনিংস। ৫১ বলে গড়া তার ইনিংসটিতে রয়েছে পাঁচটি চার ও ছয়টি ছক্কা!
শেষ পাঁচ বলে আরো ৯ রান যোগ করেন পুরান ও জাকির আলী। দুই বলে এক চারে ৫ রানে অপরাজিত থাকেন জাকির। পুরান ৪৭ রানে অপরাজিত থেকে যান। তার ২৭ বলের ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারি ও তিনটি ছক্কা।
রংপুরের পক্ষে মাশরাফী সর্বাধিক ২ উইকেট নিয়েছেন। শফিউল ইসলাম নিয়েছেন ১ উইকেট।
ম্যাচ সেরার পুরস্কারটি জিতে নিয়েছেন রংপুরের রাইলি রুশো।
সাত ম্যাচে তিন জয়ে রংপুরের পয়েন্ট ৬। সাত ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ষষ্ঠস্থানে আছে সিলেট।