মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অপহরণের ৩ দিন পর জুবায়ের হোসেন (৭) নামে এক শিশুর খণ্ডিত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে র্যাব- ৪। এ ঘটনায় ২ যুবককে আটক করা হয়েছে। রোববার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২ জনকে সঙ্গে নিয়ে জালশুকা গ্রামের একটি লেবুক্ষেত থেকে জুবায়েরের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
জুবায়ের সাটুরিয়া উপজেলার জালশুকা গ্রামের সামছুল হকের ছেলে। সে জালশুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
বিষয়টি সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
জুবায়ের বাবা সামছুল হক বলেন, জুবায়ের বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) স্কুল থেকে ফেরার পর দুপুরে বাড়ির পাশের মহিদুল ইসলামের সঙ্গে খেলা করে। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ হয়। পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার সময় মোবাইল ফোনে এক নারী তার কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। ১২ ঘণ্টার মধ্যে ৩ লাখ টাকা সাভার ওভার ব্রিজের নিচে নিয়ে না আসলে ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। টাকা নিয়ে সাভার গেলেও অপহরণকারীরা আর আসেননি।
পরে শুক্রবারই সাটুরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন সামছুল হক। যে মোবাইল ফোন থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয় তা ট্রেকিং এর মাধ্যমে নবীনগর র্যাব ৪ (উপ- অধিনায়ক) মেজর আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযানে বের হয়।
রোববার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২ জনকে সঙ্গে নিয়ে জালশুকা গ্রামের একটি লেবুক্ষেত থেকে জুবায়ের হোসেনের খণ্ডিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সাটুরিয়া থানা পুলিশ রোববার দুপুর ১টার দিকে খণ্ডিত দেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য থানায় নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় জালশুকা গ্রামের পাহালীর ছেলে মহিদুল ইসলাম (২০) ও নাগর পুর উপজেলার গন্দ জালশুকা গ্রামের কুরবান আলীর ছেলে উজ্জ্বলকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করেছে র্যাব।
এ ব্যাপারে সাটুরিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, জুবায়েরের দেহ ৫-৬টি খণ্ডে খণ্ডিত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে অপহরণকারীরা তাকে হত্যা করে লেবুক্ষেতে রেখে যায়। পরে তার মৃতদেহ শিয়াল কামড়ে খেয়ে ফেলায় তার দেহে কোনো মাংস ছিল না।