ধর্ষণের শিকার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের আহ্বান বিএনপির

নোয়াখালীতে ঘরে ঢুকে নারী ধর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় দলের নেতাকর্মীদেরকে পরিবার দুইটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান তিনি।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে মশকরা করা হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেছেন, ধানের শীষে ভোট দেয়ার অপরাধে সুবর্ণচরের নির্যাতিতার আহাজারি ও গোঙানি থামতে না থামতেই কবিরহাটে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে সাজানো মামলায় কারাবন্দী বিএনপি নেতার স্ত্রী ও তিন সন্তানের মাকে স্থানীয় যুবলীগের কর্মীরা গণধর্ষণ করেছে।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন রিজভী। সংবাদ সম্মেলনটি হয়। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ভুয়া ভোটের মিথ্যা জয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫৭ আসনে নিরঙ্কুশ জয় উপলক্ষে গতকাল শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় সমাবেশের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব দলকে ধন্যবাদ জানান। ভোটে আসা দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জয়-পরাজয় একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমি বলতে চাই আওয়ামী লীগ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে এটা সত্য।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশ জনগণের পকেট কাটা টাকায় হয়েছে। নির্বাচনের আগের রাতে মহাভোট ডাকাতির পর সেই ভুয়া নির্বাচনকে জায়েজ করার জন্য সরকার যা যা করছে তা চরম হাস্যকর।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে গণতন্ত্র হত্যার উৎসবে পরিণত করা হলো বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সর্বকালের মধ্যে চরম খারাপ অবস্থায় পতিত হয়েছে। আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে বলেই আওয়ামী যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের বেপরোয়াভাবে এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ভোট ডাকাতির জয়ে ক্ষমতাসীনরা অহংকার আর উন্মত্ততায় বিচার বুদ্ধি হারিয়ে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের রাতে জেলার সুবর্ণচরে চার সন্তানের জননী এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ওই নারীর অভিযোগ, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের নেতৃত্বে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে রুহুলসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, কবিরহাটে শুক্রবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক কারাবন্দী বিএনপি নেতার স্ত্রী। কবিরহাট উপজেলার ৩নং ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের এ ঘটনায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন নির্যাতিতা ওই নারী (৩২)। এ ঘটনায় কবিরহাট থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ এক ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।