ডাকসু নির্বাচনে ভোটার ও ভোটকেন্দ্র নিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে দ্বিমত অন্যদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় মতামত জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। এতে ভোটার এবং প্রার্থীর বয়স, ভোটকেন্দ্র, সহাবস্থান, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে অন্য সংগঠন দ্বিমত পোষণ করেছে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে প্রশাসন।

বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন উপাচর্যসহ ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

তাদের বক্তব্যে জানা যায়, আলোচনায় ভোটকেন্দ্র হলে করার দাবি জানায় ছাত্রলীগ ও জাসদ ছাত্রলীগ। অন্যদিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনে ভোটকেন্দ্র করার দাবি জানায় ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশনসহ অন্যান্য সংগঠন।

তারা ভোটের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য ভোট কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান।

অন্যদিকে, যারা দ্বিতীয়বারের মতো মাস্টার্স করছে তারা ডাকসু এবং হল সংসদের ফি দেয় তাদের ভোটার করার দাবি জানান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দি।

এ সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেছেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও চাকরির বয়সের (৩০) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভোটার ও প্রার্থী করা হোক।

তবে ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন তাদের এই বক্তব্যের দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ভোটার করার দাবি জানান।

গোলাম রাব্বানী আরো বলেছেন, ছাত্রদল কোন্দলের কারণে ক্যাম্পাস ছেড়েছে। তাদের মধ্যে যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী তারা প্রভোস্টের মাধ্যমে হলে থাকলে আমাদের সমস্যা নেই।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন সাংবাদিকদের বলেছেন, সভায় ছাত্রদলসহ সব ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে মধুর ক্যান্টিন, আবাসিক হলে সহাবস্থানের দাবি করা হয়েছে। ভোটার এবং প্রার্থীর ক্ষেত্রে যারা ডাকসুর ফি প্রদান করে সবাইকে সুযোগ দিতে হবে।

ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থানান্তরের জন্য গঠনতন্ত্র সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্য করার দাবি জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

তিনি বলেছেন, ডাকসুর সভাপতির (ভিসি) ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করার দাবিও জানান হয়েছে সভায়।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দি বলেছেন, ভোটকেন্দ্র ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনে আনার জন্য প্রশাসনের কাছে অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন দাবি জানিয়েছেন। আমরাও একই দাবি জানিয়েছি।

সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেছেন, সভায় গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গঠনতন্ত্র নিয়ে যে সুপারিশ করা হয়েছে তা সিন্ডিকেট সভায় উঠবে। সেখানে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তফসিলের বিষয়ে তিনি বলেছেন, আমরা একটা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে তফসিল দেওয়া হবে। মার্চেই ডাকসু নির্বাচন হবে বলে জানান।

উপাচার্য আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী সভা সঞ্চালন করেন।

ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের দুই গ্রুপ, জাসদ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্রমৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র আন্দোলনসহ ১৪টি ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।