কলাবাগানে অন্তঃসত্ত্বা নারীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

রাজধানীর কলাবাগানের একটি বাসা থেকে রুনা আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রুনা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

কলাবাগান থানা-পুলিশ নর্থ সার্কুলার রোডের ভূতের গলির একটি বাসা থেকে সোমবার রুনার লাশ উদ্ধার করে । ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে রুনার স্বামী মো. আসিফ। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কলাবাগান থানা-পুলিশ। রুনার স্বজনদের অভিযোগ স্বামী মো. আসিফই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়েছে।

জানা যায়, শরিয়তপুর নরিয়া উপজেলার শালদ গ্রামের নুর মিয়ার মেয়ে রুনা। তার বাবা-মা ও অন্য ভাইবোনেরাও ভূতের গলিতে রুনার বাসার পাশেই থাকেন। নিহত রুনার স্বামী আসিফ শাহবাগে ফুলের ব্যবসা করেন। একই সাথে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান রয়েছে।

নিহত রুণার ছোট বোন সুবর্ণা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকালে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আমরা প্রথমে ভূতের গলিতে আপুর বাসায় যায়। সেখানে গিয়ে বাসায় তালা দেওয়া দেখি। পরে কলাবাগান থানায় গিয়ে আপুর বাসায় সাবলেট থাকা ইমরান ভাইকে দেখি। ওই ভাই ও পুলিশ নিয়ে আপুর বাসায় গিয়ে দেখি বিছানার ওপর শুয়ে আছে আপু। গলায় কালো দাগ ছিল। রুমের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না ঝুলছিল।”  

নিহত রুনার বড় ভাই আদনান আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত দেড় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে করে রুনা আর আসিফ। ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন রুনা। আসিফ অন্য নারীর সাথে পরকীয়া করতেন। ওই মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে রুনা ও আসিফের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। রবিবার রুনা ও আসিফ আমাদের বাসায় বেড়াতে আসার পর পরকীয়ার ঘটনা নিয়ে রাগারাগির একপর্যায়ে রুনা স্বামীর বাসায় ফিরে যায়। পরে সোমবার সকাল ৬ টার দিকে আসিফের ভাই সজিব গাজিপুর থেকে আমাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায় রুনা বাসার ভেতর ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ খবর শোনার পর আমি রুনার বাসায় গিয়ে দেখি সে খাটের ওপর মৃত অবস্থায় পরে আছে। তখন থেকেই তার স্বামী আসিফকে পাওয়া যায়নি। আসিফই আমার বোনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়েছে।

কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফ বলেন, রুনার গলায় কালচে দাগ রয়েছে। এছাড়া ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। নিহতের পলাতক স্বামীকে ধরার চেষ্টা চলছে।