ডাকসু নির্বাচনের কেন্দ্র নিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে মতভেদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বিতীয় দফায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সভা করে মতামত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল সোমবারের ওই সভায় ভোটকেন্দ্র নিয়ে ছাত্রলীগ ও বাকি ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। আবারও সব দলের সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবি উঠেছে, প্রার্থী ও ভোটারদের বয়স নিয়ে দ্বিমত ছিল ছাত্রলীগে। সভা শেষে মার্চে নির্বাচন হবে বলে জানান উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের ভিসি কার্যালয় সংলগ্ন আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল রুমে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টরা এতে অংশ নেন। প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী সভা সঞ্চালন করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের দুই গ্রুপ, জাসদ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্রমৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র আন্দোলনসহ ১৪টি ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। সভা শেষে উপাচার্য ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা সংবাদ সম্মেলন করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘সভায় ডাকসুর গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গঠনতন্ত্র নিয়ে যে সুপারিশ করা হয়েছে, তা সিন্ডিকেট সভায় উঠবে।’ তফসিলের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে তফসিল দেওয়া হবে। আমরা এবং সিন্ডিকেট সদস্যরা একটা বিষয়ে একমত যে, যারা ভোট দিতে পারবে, তারা প্রার্থীও হতে পারবে।’ আগামী মার্চে ডাকসু নির্বাচন হবে বলে
জানান তিনি। আলোচনা সভায় ছাত্র সংগঠনের নেতারা তাদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনের সামনে বক্তব্য তুলে ধরেন। এ সময় ভোট কেন্দ্র নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন দাবি ওঠে। হলের মধ্যে কেন্দ্র করার দাবি জানায় ছাত্রলীগ ও জাসদ ছাত্রলীগ। অন্যদিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র করার দাবি জানায় ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশনসহ অন্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা ভোটের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে কেন্দ্রগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবিও জানান। ভোটার ও প্রার্থীদের বয়স নিয়ে মতবিরোধ ছিল সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে। ছাত্র ইউনিয়ন,
ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা বলেন, ৩০ বছরের মধ্যে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন। যারা দ্বিতীয়বারের মতো মাস্টার্স করছে এবং ডাকসু ও হল সংসদের ফি দেয় তাদের ভোটার করার দাবি জানান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী। এ সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, তাদের অন্তুর্ভুক্ত করা হলেও চাকরির বয়সের (৩০) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভোটার করা হোক। কিন্তু ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন তাদের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ভোটার করার দাবি জানান। গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম হলকেন্দ্রিক তাই ভোটকেন্দ্র হলের মধ্যে করা হোক।’ তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে, কিন্তু ছাত্রদলকে ইতিবাচক ধারায় আসতে হবে। তাহলে তারা সহাবস্থান করতে পারবে।’ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন বলেন, ‘ছাত্রদলসহ সব ছাত্র সংগঠনের পক্ষে থেকে মধুর ক্যান্টিন, আবাসিক হলগুলোতে সহাবস্থানের দাবি করা হয়েছে। ভোটার ও প্রার্থিতার ক্ষেত্রে যারা ডাকসুর ফি প্রদান করে সবাইকে সুযোগ দিতে হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে পাশে উপস্থিত থাকা ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে এলে ছাত্রলীগ নেতারা মারধর করে।’ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র ক্যাম্পাসের অ্যাকাডেমিক ভবনে আনার জন্য অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন দাবি জানিয়েছে। আমাদেরও একই দাবি।’
নগর