কুমিল্লা হারাল ঢাকাকে

শটটা খেলে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। শহিদ আফ্রিদির করা সেই বল মিড উইকেট বাউন্ডারি লাইনে শামসুর রহমানের হাতে জমতেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আগাম জয়োৎসব করে নিল। তখনো ঠায় দাঁড়িয়ে সাকিব। রাজ্যের অন্ধকার চেহারায়। ধীর পায়ে ফিরতে থাকেন। যেন কোনো পরাজিত সেনাপতি!

ঢাকা ডায়নামাইটসের তখন ১১৮ রান। সাকিব ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট। ৮ উইকেটে কুমিল্লা করেছিল ১৫৩। ২৪ বলে জয়ের ৩৬ রানের হিসাব ঢাকা আর মেলাতে পারেনি। টানা দুই ম্যাচে দলের সেরা পারফর্মার সাকিব। এবং তিনি পরাজিত দলে। ৪ ম্যাচের মধ্যে ঢাকা হারল তিনটিতে। দুটিতে টানা। অথচ প্রথম ৪ ম্যাচে টানা জিতেছিল। ৮ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্টে শীর্ষেই এখনো। কুমিল্লা ৮ ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে এখন তাদের সমান্তরালে। ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। বিপিএলে প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ব্যাট হাতে ২০ যথেষ্ট হলো না।

আফগান তরুণ হজরতুল্লাহ জাজাই (১) একাদশে ফিরে ব্যর্থ। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ওই শিকারের পর কুমিল্লার বিদেশি বোলাররা একে একে উইকেট নিয়ে চলেন। ৩০ রানে ৩ উইকেট। ৫০ রানে ৪। আন্দ্রে রাসেলের সঙ্গে সাকিবের ৬২ রানের জুটি এরপর। রাসেল ৫টি ছক্কা মারলেন। ২টি চার। ২৪ বলে ৪৬। আর কিছুক্ষণ থাকলে? থিসারা পেরেরার বলে মেহেদী হাসান ভালো ক্যাচ নিলেন। তখন সাকিবের ম্যাচ জেতানোর দায়। ১৮ বলে ১ চারে ২০ তার ধৈর্যের গল্প বলে। কিন্তু এনামুল হক বিজয় তাকে সহজে রান আউট করার সুযোগ মিস করার ওভারে খেলা ১৯তম বলটাকে তুলে দিয়ে হতাশায় ডোবেন সাকিব।

তিন বলের ব্যবধানে থিসারা পেরেরা ২ উইকেট তুলে নেন। শুভাগত হোম (৩) ও নুরুল হাসান সোহান (৪) পরিস্থিতির দাবি মেটানোর চেষ্টা না করে আত্মাহুতি দিয়ে আসেন। মোহাম্মদ নাঈম তবু রুবেল হোসেনকে নিয়ে লড়েন। কিন্তু ১৯তম ওভারে থিসারা মোটে ১ রান দিলে শেষ ৬ বলে ১৯ রান দরকার ঢাকার। সাইফউদ্দিনের ওভারটিতে ১১ রান নিলেও জয়ের সঙ্গে থেকে যায় ব্যবধান। ম্যান অব দ্য ম্যাচ পেরেরার ৩ উইকেট, আফ্রিদির ২, ওয়াহাব রিয়াজ ও সাইফউদ্দিনের ১টি করে।

বোলারদের কারণে এমন জয় পাওয়া কুমিল্লা শেষে তামিম ইকবাল (৩৪), থিসারা (১২ বলে ২৬), আফ্রিদিদের (৮ বলে ১৬) কাছে ঋণী। তবে শামসুর রহমান তার ৩৫ বলে ৪৮ এর জন্য সবার চেয়ে এগিয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ১৫৩/৮, ২০ ওভার (শামসুর রহমান ৪৮, তামিম ৩৪; সাকিব ৩/২৪, রুবেল ২/২৬)। ঢাকা ডায়নামাইটস : ১৪৬/৯, ২০ ওভার (রাসেল ৪৬, সাকিব ২০; পেরেরা ৩/১৪, আফ্রিদি ২/১৮, সাইফউদ্দিন ১/৩৮)। ফল : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৭ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : থিসারা পেরেরা।

কুমিল্লা : ১৫৩/৮ (২০ ওভার)

ঢাকা : ১৪৬/৯ (২০ ওভার)

ফল : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৭ রানে জয়ী