লক্ষ্মী কুঞ্জ। বাইরের নাম ফলক দেখে অনেকেই মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে যান বাড়িটির সামনে। কারণ আর কিছুই নয়, এখানেই বাস করতেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাক। প্রিয় নায়ক নেই, তাতে কী, তার বাড়িটি এক নজর দেখা তো যেতেই পারে।
লক্ষ্মী কুঞ্জের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে সবই ঠিকভাবে চলছে, তবু কোথাও যেন একটা হাহাকার। মানুষের, ইট কাঠের।
বারান্দায় ঝুলছে ছবি। সেই ছবিতে নির্বাক তাকিয়ে আছেন নায়করাজ। যেন সবই দেখছেন। হয়তো বলছেন, আমি নেই, কিন্তু তোমাদের ভালোবাসা আজও আমাকে জীবন্ত করে রেখেছে।
নায়করাজের ছেলে সম্রাট জানালেন, রাজ্জাক ফজরের নামাজে যাওয়ার আগে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে কিছুটা সময় বারান্দায় বসতেন। কখনো কখনো সকালে বা বিকেলেও বারান্দায় বসতেন। অলস বিকেলে নাতিদের নিয়ে উঠোনে হাঁটতেন, খেলা করতেন। কখনো দোলনায় বসে দোল খেতেন। সেই সব স্মৃতি আগলে রেখে নায়করাজের পরিবার পার করল দু’বছর।
নায়করাজের জন্মদিনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার কথা হয় সম্রাটের সঙ্গে। তার কণ্ঠে বাবা না থাকার কষ্টের পাশাপাশি ঝরল কিছু বেদনাও। বললেন, “বাবা নেই। বাবা থাকলে ঘটা করে জন্মদিন পালন করা হতো। যে মানুষটি নেই তার জন্মদিন আমরা কীভাবে পালন করি। তবে সেভাবে কোনো আয়োজন আমরা না করলেও গত বছরের মতো এবারও আছর নামাজের পর বাসায় কোরআনখানি করব। বাবার জন্য দোয়া দরুদ পড়াব। আর এতিমখানায় কিছু দান-খয়রাত করব।”
কিছুটা অভিমান নিয়ে সম্রাট বলেন, “বাবার স্মৃতি রক্ষার্থে এখনো কোনো সরকারি উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বা কারও পক্ষ থেকেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পাশের দেশেও উত্তম কুমার বা গুণী তারকাদের স্মৃতি রক্ষার্থে জাতীয় উদ্যোগে অনেক কিছুই করা হয়। কিন্তু বাবার জন্য এখনো কিছু করা হয়নি। সরকারের নিকট আমাদের একটা আবেদন থাকবে বাবার স্মৃতি রক্ষার্থে সরকার যেন কিছু একটা করে।”
সঙ্গে যোগ করেন, “হতে পারে কোনো সড়কের নাম, কোনো স্মৃতিশালা বা ইনস্টিটিউট। এ দেশে জাতীয় অধ্যাপক আছেন, জাতীয় কবি আছেন, জাতীয় নায়ক হিসেবেও তো তাকে ঘোষণা করা যেতে পারে। যদিও সরকার তাকে সেরকমই সম্মান দেখিয়ে এসেছেন এতকাল। এটা আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি বিনীত নিবেদন থাকবে।”
সেই সঙ্গে সম্রাট জানালেন নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগের কথাও। তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের উদ্যোগে বাবার নামে একটা ফাউন্ডেশন করব। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজটা করব। আর সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়।”
নায়করাজ টানা চার দশক ধরে রাজত্ব করেন ঢালিউডে। কাজ করেছেন টলিউডের ছবিতেও। তিনি ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট পরলোকে পাড়ি জমান।