দারুণ বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডকে কম রানে বেঁধে দিয়ে কাজটা সহজ বানিয়ে দেন বোলাররা। অনায়াসেই বাকি কাজ সাড়লেন ব্যাটসম্যানরা। তাতে ভারত ভেসেছে জয়োল্লাসে।
পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে বুধবার স্বাগতিক নিউ জিল্যান্ডকে ডাকওয়ার্থ অ্যান্ড লুইস পদ্ধতিতে ৮ উইকেটে হারায় ভারত।
সূর্যাস্তের সময় কিরণ ব্যাটসম্যানের চোখে পড়ায় খেলতে সমস্যা হচ্ছিল। এ জন্য অনেকটা সময় বন্ধ রাখা হয় খেলা। খেলা আবার শুরু হলে ৩৪.৫ ওভারে ১৫৬ রানের লক্ষ্য পায় ভারত। ৮৫ বল বাকি থাকতেই মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বিরাট কোহলির দল।
শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার ব্যাটে ভালো একটি শুরু পায় অতিথি দল। তবে বেশিক্ষণ উইকেটে টিকতে পারেননি রোহিত। ডগ ব্র্যাসওয়েলের বলে মার্টিন গাপটিলের হাতে ক্যাচ দেন এই ওপেনার।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ধাওয়ান ও বিরাট কোহলির জুটিতে জয়ের ভিত পেয়ে যায় ভারত। কোহলির বিদায়ে থামে ৯১ রানের এই জুটি। লকি ফার্গুসনের বোলে কটবাহাইন্ড হন ভারতের এই তারকা ব্যাটসম্যান। এর আগে ৫৯ বলে তিন চারে করেন ৪৫ রান।
এরপর আম্বাতি রাইডুর সঙ্গে ২৪ রানের জুটি গড়েন ধাওয়ান। তাদের দৃঢ়তায় জয়ের বন্দরে পৌঁছতে আর কোনো উইকেট হারায়নি ভারত।
শেষ পর্যন্ত ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন ধাওয়ান। তার ১০৩ বলের ইনিংসটিতে রয়েছে ছয়টি চারের মার। ২৩ বলে দুই চারে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন রাইডু।
এর আগে নেপিয়ারে ভারতীয় বোলারদের দাপটের সামনে নির্ধারিত ওভারের ১২ বল আগেই ১৫৭ রানে গুঁড়িয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড। উইলিয়ামসন ছাড়া সেভাবে মাথা তুলতে পারলেন না দলটির কোন ব্যাটসম্যান।
প্রথমে ব্যাট করে ভারতকে বড় রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে কিউইরা মাঠে নেমেছিল দ্বিতীয় ওভার থেকেই সেই স্বপ্ন ফিকে হতে থাকে। বোলিংয়ে এসেই ওপেনার মার্টিন গাপটিলকে উইকেট ছাড়া করেন শামি। এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে দ্রুততম সময়ে ওয়ানডেতে একশো উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই পেসার।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে নিউ জিল্যান্ড ইনিংসে দ্বিতীয় আঘাতটিও হানেন শামি। তার ডেলিভারি বুঝে উঠতে পারেননি আরেক ওপেনার কলিন মুনরো; ফেরেন বোল্ড হয়ে।
কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন গত বছরটা দারুণ কাটানো রস টেলর। এবার কিউইদের জন্য বিপদ হয়ে আসেন যুজবেন্দ্র চাহাল। দলীয় ৫২ রানে টেলরকে (২৪) কট অ্যান্ড বোল্ড করেন এই লেগস্পিনার।
দলের স্কোরে আর ২৪ রান জমা পড়তেই চতুর্থ উইকেট হারায় নিউ জিল্যান্ড। এবার টম ল্যাথামকে কট অ্যান্ড বোল্ড করেন চাহাল। অধিনায়ক উইলিয়ামস ছাড়া ভারতীয় বোলারদের সামনে বেশিক্ষণ সময় কাটাতে পারেননি কেউই।
নিজে অর্ধশতরান পূর্ণ করলেও পুরো ইনিংস জুড়ে সঙ্গী হীনতায় ভুগেছেন উইলিয়ামস। অন্যদিকে বিষাক্ত স্পিনের ছোবলে কিউয়ি ব্যাটিং লাইন আপে কাঁপুনি ধরিয়ে দেন চায়নাম্যান কুলদীপ যাদব। তাসের ঘরের মত ভেঙে স্বাগতিক দলের ব্যাটিং লাইনআপ।
দলীয় ১৪৬ রানের মাথায় সর্বোচ্চ ৬৪ রান করে উইলিয়ামসন প্যাভিলিয়নে ফিরতেই তাড়াতাড়ি গুটিয়ে যায় নিউ জিল্যান্ডের ইনিংস। কুলদীপের ডেলিভারিতে বিজয় শংকরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন উইলিয়ামসন। তার ৮১ বলের ইনিংসটিতে রয়েছে নয়টি চারের মার।
কুলদীপ ৩৯ রানে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। মাত্র ১৯ রানে তিন উইকেট নেন শামি। চাহাল নেন দুই উইকেট। একটি উইকেট কেদার যাদবের।
ম্যাচ সেরা হন ভারতের শামি।
মঙ্গানুইয়ে আগামী শনিবার হবে দল দুটির মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডে হবে।